Cricket News

এক টেস্টে লাল ও গোলাপি বলের ব্যবহার! ক্রিকেটের নিয়মে বড় পরিবর্তনের পথে আইসিসি

Shaurya Rathore · · 1 min read
Share

টেস্ট ক্রিকেটে ঐতিহাসিক পরিবর্তনের পথে আইসিসি

ক্রিকেট বিশ্বের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) খেলার নিয়মকানুন ও খেলার পরিবেশ নিয়ে বড় ধরনের পরিবর্তনের পরিকল্পনা করছে। লাল বলের টেস্ট ক্রিকেটের ঐতিহ্য এবং গোলাপি বলের ফ্লাডলাইটের লড়াইয়ের মধ্যে সমন্বয় তৈরির লক্ষ্যে এক যুগান্তকারী প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে। জয় শাহের নেতৃত্বাধীন আইসিসি এবার টেস্ট ম্যাচের মাঝপথেই বল পরিবর্তনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।

একই ম্যাচে লাল ও গোলাপি বলের ব্যবহার

টেস্ট ক্রিকেটের সূচনালগ্ন থেকেই লাল বলের আধিপত্য। তবে আইসিসির নতুন ভাবনা অনুযায়ী, একটি টেস্ট ম্যাচেই লাল বলের বদলে গোলাপি বল ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হতে পারে। ক্রিকেট বিষয়ক ওয়েবসাইট ক্রিকবাজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈরী আবহাওয়া বা কম আলোতে খেলা চালিয়ে যাওয়ার জন্য উভয় দলের সম্মতি থাকলে গোলাপি বল ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হতে পারে। অর্থাৎ, মাঠের দৃশ্যপট বা আলোর স্বল্পতার কারণে খেলা বন্ধ না করে গোলাপি বলে খেলা চালিয়ে যাওয়ার এই উদ্যোগ টেস্ট ক্রিকেটের জন্য বেশ তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে। তবে শর্ত হলো, এই পরিবর্তনের জন্য উভয় দলের পারস্পরিক সম্মতি প্রয়োজন। কোনো একটি দল রাজি না হলে গোলাপি বল ব্যবহারের সুযোগ থাকবে না।

কোচের মাঠে প্রবেশ ও কৌশলগত পরিবর্তন

শুধু বলের রঙ নয়, আইসিসি ওয়ানডে ক্রিকেটের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছে। নতুন নিয়মে ইনিংসের মাঝে পানীয় পানের বিরতিতে হেড কোচদের মাঠে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। বর্তমানে কেবল সাবস্টিটিউট খেলোয়াড়রাই মাঠে প্রবেশের অনুমতি পান। ওয়ানডে ক্রিকেটে প্রতি ইনিংসে দুটি করে বিরতি থাকে, যা প্রায় এক ঘণ্টা দশ মিনিট অন্তর দেওয়া হয়। এই বিরতির সময় কোচদের সরাসরি মাঠে এসে খেলোয়াড়দের কৌশলগত পরামর্শ দেওয়ার সুযোগ থাকলে তা ম্যাচের গতিপ্রকৃতি বদলে দিতে পারে। তবে কোচদের পোশাকবিধি বা জার্সি পরিধানের বিষয়টি এখনো স্পষ্ট করা হয়নি।

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের বিরতিতে কাটছাঁট

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা বাড়াতে এর সময়সীমা নিয়ন্ত্রণের দিকে বিশেষ নজর দিচ্ছে আইসিসি। বর্তমানে টি-টোয়েন্টি ম্যাচের দুই ইনিংসের মাঝে ২০ মিনিটের বিরতি থাকে। প্রস্তাবিত নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এই বিরতির সময় কমিয়ে ১৫ মিনিট করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর ফলে ম্যাচগুলো আরও দ্রুত শেষ হবে এবং দর্শকদের আগ্রহ বজায় থাকবে।

আইসিসির নিয়ম পরিবর্তনের প্রক্রিয়া

আইসিসির এই পরিবর্তনগুলো হঠাৎ করে কার্যকর হয় না। এটি একটি দীর্ঘস্থায়ী ও সুশৃঙ্খল প্রক্রিয়া। প্রথমে ক্রিকেট কমিটি—যাতে প্রাক্তন ক্রিকেটার, আম্পায়ার এবং কোচরা থাকেন—তারা সমস্যাগুলো চিহ্নিত করেন এবং প্রস্তাব তৈরি করেন। এরপর চিফ এক্সিকিউটিভস কমিটি (CEC) এই প্রস্তাবগুলো যাচাই-বাছাই করে। সেখানে প্রতিটি পূর্ণ সদস্য দেশের সিইওরা অংশ নেন এবং ভোটাভুটি হয়। সবশেষে আইসিসি বোর্ড এই সিদ্ধান্তগুলো অনুমোদন করে। সাধারণত বড় কোনো টুর্নামেন্ট বা দ্বিপাক্ষিক সিরিজের শুরুতেই এই নতুন নিয়মগুলো কার্যকর করা হয়।

উপসংহার

সাম্প্রতিক এক সভায় এই প্রস্তাবগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ৩০ মে আহমেদাবাদে আইসিসি বোর্ডের পরবর্তী সভায় এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। ক্রিকেটের আধুনিকায়নের এই প্রচেষ্টাকে অনেক বিশ্লেষক ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন, তবে ঐতিহ্যবাহী ফরম্যাটে এই পরিবর্তনগুলো কতটা গ্রহণযোগ্য হয়, তা দেখার অপেক্ষায় ক্রিকেট বিশ্ব।

সূত্র: এএফপি

Shaurya Rathore
Shaurya Rathore

Following the sun and the cricket season worldwide. Your go-to source for international tours and franchise league updates.