বরুণ চক্রবর্তীর চোটের আপডেট: দিল্লি ক্যাপিটালসের বিরুদ্ধে ম্যাচের আগে মুখ খুললেন অভিষেক নায়ার
আইপিএল ২০২৬: বরুণ চক্রবর্তীর লড়াকু মানসিকতা
আইপিএল ২০২৬ মৌসুমটি কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) এবং তাদের প্রধান রহস্যময় স্পিনার বরুণ চক্রবর্তীর জন্য মোটেও সহজ ছিল না। টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই বরুণকে চড়াই-উতরাইয়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। ফর্মে ফেরার লড়াইয়ের মধ্যেই একের পর এক চোট তার পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি কেকেআর কোচ অভিষেক নায়ার বরুণের এই শারীরিক সমস্যার বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছেন, যা ক্রিকেট ভক্তদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
একের পর এক চোটের ধাক্কা
বরুণ চক্রবর্তী এই মরসুমে বেশ কয়েকটি চোটের সম্মুখীন হয়েছেন। টুর্নামেন্টের মাঝপথে আঙুলের চোটের পাশাপাশি তার পায়ের পাতাতেও হেয়ারলাইন ফ্র্যাকচার ধরা পড়ে। এই একাধিক শারীরিক সমস্যা কেবল তার ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সকেই প্রভাবিত করেনি, বরং দলের সামগ্রিক রণকৌশলেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। আগামী ২৪ মে দিল্লি ক্যাপিটালসের (ডিসি) বিরুদ্ধে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে এই বিষয়টি নিয়ে কেকেআর ডাগআউটে আলোচনা তুঙ্গে।
অভিষেক নায়ার বলেন, ‘বরুণের জন্য এই মরসুমটি মোটেই মসৃণ ছিল না। সে চোট পেয়েছে, আবার ফর্মে ফেরার চেষ্টা করেছে। এই টুর্নামেন্টে ইতিমধ্যে তার শরীরের বেশ কয়েকটি জায়গা আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে। আগে আঙুল এবং এখন পায়ের পাতার চোট—পরিস্থিতি তার জন্য খুব কঠিন ছিল।’
ব্যথাকে জয় করার অদম্য ইচ্ছা
সতীর্থ ও কোচিং স্টাফদের কাছে বরুণ চক্রবর্তী একজন ‘লড়াকু চরিত্র’ হিসেবে পরিচিত। যদিও বাইরে থেকে তাকে দেখে শান্ত মনে হয়, কিন্তু ভেতরে ভেতরে তিনি অত্যন্ত আবেগপ্রবণ এবং কেকেআর ফ্র্যাঞ্চাইজির প্রতি গভীরভাবে দায়বদ্ধ। অভিষেক নায়ার যোগ করেন, ‘সবচেয়ে কঠিন চরিত্রের মানুষরাই ব্যথা এবং প্রতিকূলতাকে জয় করতে শেখে। বরুণ ঠিক তেমনই একজন। কথা বলার সময় তাকে দেখে মনে না হলেও, সে ভেতর থেকে অত্যন্ত অনুপ্রাণিত এবং এই ক্লাবের প্রতি তার আবেগ অনেক বেশি।’
অভিষেক নায়ার আরও বলেন যে, বরুণ দলের একজন অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাকে জোর করে খেলানোর প্রয়োজন পড়ে না, বরং দলের প্রতি ভালোবাসার টানেই তিনি খেলার জন্য মরিয়া হয়ে থাকেন। তিনি মনে করেন, একজন ফ্র্যাঞ্চাইজি খেলোয়াড় হিসেবে কেকেআরকে কতটা ভালোবাসেন বরুণ, তা তার এই লড়াই দেখলেই বোঝা যায়।
দিল্লি ক্যাপিটালসের বিরুদ্ধে সেই ঐতিহাসিক ম্যাচ
গত ৮ মে দিল্লি ক্যাপিটালসের বিরুদ্ধেই ম্যাচ চলাকালীন বরুণের বাঁ পায়ের পাতায় হেয়ারলাইন ফ্র্যাকচার হয়। সেই যন্ত্রণার মধ্যেও তিনি দলের স্বার্থে নিজের চার ওভারের কোটা সম্পন্ন করেছিলেন। সেই ম্যাচে তাকে খোঁড়াতে দেখা গিয়েছিল, যা পরবর্তীতে ফ্র্যাকচারের খবর আসার পর সবাইকে অবাক করে দেয়। এই চোটের কারণেই ১৩ মে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর বিপক্ষে ম্যাচ থেকে তাকে ছিটকে যেতে হয়েছিল।
বরুণের এই অদম্য মানসিকতা কেকেআর শিবিরে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। টুর্নামেন্টের বাকি অংশগুলোতে তার ফিটনেস এবং বোলিং পারফরম্যান্সের ওপর অনেকটাই নির্ভর করছে কলকাতা নাইট রাইডার্সের ভবিষ্যৎ। ভক্তরা আশা করছেন, এই কঠিন সময়ের মোকাবিলা করে বরুণ পুনরায় তার ভিনটেজ ফর্মে ফিরে আসবেন এবং দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন। কেকেআর ম্যানেজমেন্টও বরুণের ওপর অগাধ আস্থা রাখছে, কারণ একজন বোলার যখন শারীরিক যন্ত্রণার ঊর্ধ্বে গিয়ে দলের জন্য বল করেন, তখন সেই দলের মনোবল এমনিতেই বেড়ে যায়। এখন দেখার বিষয়, ডিসি-র বিরুদ্ধে আসন্ন লড়াইয়ে বরুণ নিজেকে কতটা প্রস্তুত রাখতে পারেন।