Ishan Kishan Brushed Aside In SRH Dressing Room, Other Players Roll On The Floor
আইপিএল ২০২৬: ড্রেসিংরুমের এক মজার ভুল বোঝাবুঝি
আইপিএল ২০২৬-এর ২২ মে উপ্পল স্টেডিয়ামে আরসিবি বনাম সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের ম্যাচটি ছিল ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য এক স্মরণীয় অভিজ্ঞতা। হায়দ্রাবাদ ২৫৫ রানের বিশাল সংগ্রহ গড়ে আরসিবির বিরুদ্ধে ৫৫ রানের দাপুটে জয় তুলে নেয়। এই ম্যাচে দুর্দান্ত ব্যাটিং করে নজর কাড়েন ইশান কিষাণ, যিনি ৪৬ বলে ৭৯ রানের একটি বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন। তবে ম্যাচ শেষে ড্রেসিংরুমে ঘটে যাওয়া এক মজার ঘটনা ম্যাচের জয়কেও ছাপিয়ে যায়।
ইশান কিষাণ কেন লজ্জিত হলেন?
ম্যাচ জয়ের পর ড্রেসিংরুমে সেরা পারফর্মারের পুরস্কার দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছিল। সবাই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন। কোচিং স্টাফের একজন সদস্য যখন নাম ঘোষণা করতে শুরু করলেন, তিনি ‘ইশান’ শব্দটি উচ্চারণ করতেই ইশান কিষাণ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দাঁড়িয়ে পড়েন। তিনি ভেবেছিলেন পুরস্কারটি তিনিই পাচ্ছেন। কিন্তু বাস্তবের চিত্রটি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং কিছুটা বিব্রতকর।
প্রকৃতপক্ষে, কোচিং স্টাফের সদস্য ইশান কিষাণের নাম বলেননি, বরং তিনি ‘ইশান মালিঙ্গা’-র নাম ঘোষণা করছিলেন। নামের উচ্চারণে সাদৃশ্য থাকায় ইশান কিষাণ বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন। নিজের ভুল বুঝতে পেরে তিনি লাজুক হাসিতে মুখ ঢেকে আবার চেয়ারে বসে পড়েন। এই দৃশ্য দেখে ড্রেসিংরুমের বাকি সতীর্থরা হাসিতে ফেটে পড়েন এবং পরিস্থিতিটি বেশ হালকা হয়ে যায়। সেখানে উপস্থিত সতীর্থরা এতটাই মজা পেয়েছিলেন যে, তারা আনন্দের আতিশয্যে মাটিতে গড়িয়ে পড়তে থাকেন।
ইশান মালিঙ্গার অসামান্য পারফরম্যান্স
ইশান মালিঙ্গা কেন পুরস্কার পেলেন, তার কারণও ছিল স্পষ্ট। ইশান কিষাণ ব্যাটিংয়ে ঝড় তুললেও মালিঙ্গা বল হাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। তিনি চার ওভারে মাত্র ৩৩ রান দিয়ে ভেঙ্কটেশ আইয়ার এবং দেবদত্ত পাডিক্কালের মতো দুই গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটারের উইকেট তুলে নেন। এই পারফরম্যান্সই তাকে ড্রেসিংরুমের সেরার মুকুট এনে দেয়। অন্যদিকে, আরসিবি নির্ধারিত ২০ ওভারে ২০০ রান সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়, যার ফলে হায়দ্রাবাদ তৃতীয় স্থানে থেকে লিগ পর্ব শেষ করে।
ইশান কিষাণের অবদান অনস্বীকার্য
ড্রেসিংরুমের এই ছোটখাটো ঘটনা বা পুরস্কার না পাওয়া ইশান কিষাণের সামগ্রিক পারফরম্যান্সকে কোনোভাবেই খাটো করে না। আইপিএল ২০২৬-এর ১৪টি ম্যাচে ইশান কিষাণ ৪০.৬৪ গড়ে ৫৬৯ রান করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে ছয়টি অর্ধশতক। প্যাট কামিন্স যখন দলের অধিনায়ক হিসেবে ছিলেন না, তখন দলের কঠিন সময়ে ইশান কিষাণ ব্যাট হাতে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তার এই অবদান হায়দ্রাবাদের সফল যাত্রায় অপরিহার্য ছিল।
উপসংহার
ক্রিকেটের মাঠে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাঝে ড্রেসিংরুমের এই ধরণের হাসি-ঠাট্টা ও আনন্দময় পরিবেশ খেলোয়াড়দের মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। ইশান কিষাণ হয়তো সেই মুহূর্তে পুরস্কারটি পাননি, কিন্তু দলের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে তিনি যে ছাপ রেখে গেছেন, তা পরিসংখ্যানের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আরসিবি এবং জিটি-র পরবর্তী কোয়ালিফায়ার লড়াইয়ের অপেক্ষায় থাকাকালীন, হায়দ্রাবাদের এই ড্রেসিংরুমের মুহূর্তটি ক্রিকেট ভক্তদের মনে দীর্ঘস্থায়ী ছাপ রেখে যাবে।
পরিশেষে বলা যায়, ক্রিকেট কেবল রেকর্ড গড়ার খেলা নয়, এটি এমন কিছু মুহূর্তের সমষ্টি যা খেলোয়াড়দের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ ও আনন্দের বন্ধন তৈরি করে। ইশান কিষাণ হয়তো সেদিন ড্রেসিংরুমে সবার মনোযোগ কাড়তে চেয়েছিলেন, কিন্তু তার এই বিব্রতকর হাসি ও সতীর্থদের প্রাণখোলা হাসিই সেই রাতের সেরা প্রাপ্তি হয়ে রইল।