“Not working”: Former MI head coach urged Rishabh Pant to give up leadership role
ভারতের তারকা উইকেটরক্ষক ব্যাটার ঋষভ পন্তের ওপর নেতৃত্বের চাপ
আইপিএল ২০২৬ মরসুমে লখনউ সুপার জায়ান্টসের পারফরম্যান্স ছিল হতাশাজনক। টানা দুটি মরসুম ব্যর্থতার পর দলের অধিনায়ক ঋষভ পন্ত এখন সমালোচনার মুখে। ক্রিকেট বিশ্লেষক এবং প্রাক্তন কোচরা মনে করছেন, মাঠের নেতৃত্বের বাড়তি চাপের কারণেই পন্তের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এই প্রেক্ষিতেই, “Not working”: Former MI head coach urged Rishabh Pant to give up leadership role – প্রাক্তন মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স কোচ মার্ক বাউচারের এই মন্তব্য এখন ক্রিকেট বিশ্বে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
ঋষভ পন্তের সাম্প্রতিক ফর্মের বিশ্লেষণ
আইপিএল ২০২৬ মরসুমে পন্ত মোট ১৪টি ম্যাচ খেলেছেন। সেখানে তিনি সংগ্রহ করেছেন ৩১২ রান, যার স্ট্রাইক রেট ১৩৮। পরিসংখ্যানের বিচারে গত বছরের তুলনায় কিছুটা উন্নতি দেখা গেলেও, পন্তকে তার চেনা ছন্দে দেখা যায়নি। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোতে তার ব্যাট থেকে বড় ইনিংস না আসায় দল বারবার বিপদে পড়েছে। সঞ্জীব গোয়েঙ্কার মালিকানাধীন লখনউ সুপার জায়ান্টস যখন ২৭ কোটি টাকার বিনিময়ে পন্তকে দলে নিয়েছিল, তখন প্রত্যাশা ছিল তিনি শুধু নেতা হিসেবে নয়, বরং একজন বিধ্বংসী ব্যাটার হিসেবেও দলকে জেতাবেন। কিন্তু বাস্তবের চিত্রটি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন।
মার্ক বাউচারের কঠোর বার্তা
প্রাক্তন দক্ষিণ আফ্রিকান উইকেটরক্ষক এবং মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের প্রাক্তন কোচ মার্ক বাউচার সম্প্রতি ইএসপিএনক্রিকইনফো টাইমআউট অনুষ্ঠানে পন্তের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি সরাসরি বলেছেন, “ঋষভ পন্ত, ক্রিকেটার এবং তার নেতৃত্ব—এই দুটি বিষয় বর্তমানে একসাথে কাজ করছে না। আমরা গত কয়েক বছর ধরে এটি লক্ষ্য করছি। পন্ত যে মানের পারফরম্যান্সের জন্য পরিচিত, তা সে দিতে পারছে না।”
বাউচার আরও যোগ করেন, “কিছু খেলোয়াড় আছে যাদের প্রস্তুতির জন্য বিশেষ মনোযোগ প্রয়োজন। অধিনায়ক হিসেবে নিজের চিন্তাধারা দলের সাথে ভাগ করে নেওয়াটা খুব জরুরি। যদি দেখা যায় যে অধিনায়কত্ব পন্তের সহজাত ব্যাটিং শৈলীর পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে, তবে তার উচিত সেই দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়া।”
আম্বতি রায়ডুর পর্যবেক্ষণ
শুধু বাউচারই নন, প্রাক্তন চেন্নাই সুপার কিংস ব্যাটার আম্বতি রায়ডুও একই সুর গেয়েছেন। রায়ডুর মতে, পন্ত একজন সহজাত খেলোয়াড়, যিনি প্রবৃত্তি বা ইন্সটিংক্টের ওপর ভিত্তি করে ক্রিকেট খেলেন। রায়ডু বলেন, “যে ব্যক্তি সবসময় সহজাত প্রবৃত্তির ওপর নির্ভর করে খেলেন, তার পক্ষে সবকিছু পদ্ধতিগতভাবে পরিকল্পনা করা কঠিন। হয় তাকে অধিনায়ক হিসেবে তার নিজের মতো করে চলতে দিন, অথবা অধিনায়কত্ব থেকে সরিয়ে দিন। সে রাতারাতি তার ব্যক্তিত্ব বদলাতে পারবে না। যদি বর্তমান নেতৃত্ব পদ্ধতি কাজ না করে, তবে খেলোয়াড় হিসেবে নিজের খেলা উপভোগ করাই হবে দলের জন্য সেরা সিদ্ধান্ত।”
লখনউ সুপার জায়ান্টসের ব্যর্থতার পরিসংখ্যান
আইপিএল ২০২৫ মরসুমে রেকর্ড দামে লখনউতে যোগ দেওয়ার পর থেকে পন্ত ২৮টি ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়েছেন। এই সময়কালে তার জয়ের হার মাত্র ৩৫.৭১ শতাংশ, যেখানে তিনি মাত্র ১০টি ম্যাচে জয়লাভ করতে পেরেছেন। ২০২৬ মরসুমে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে, যেখানে পয়েন্ট টেবিলের তলানিতে থেকে মাত্র আট পয়েন্ট নিয়ে মৌসুম শেষ করেছে সুপার জায়ান্টস।
উপসংহার
ক্রিকেটের আধুনিক যুগে অধিনায়কত্বের চাপ সামলানো অত্যন্ত কঠিন। ঋষভ পন্তের মতো একজন ম্যাচ উইনার যদি তার সহজাত খেলার ছন্দ হারিয়ে ফেলেন, তবে তা ভারতীয় ক্রিকেটের জন্য চিন্তার কারণ। বাউচার এবং রায়ডুর মতো অভিজ্ঞদের পরামর্শ কি ঋষভ পন্ত গ্রহণ করবেন? নাকি আগামীর মরসুমে নতুন কোনো কৌশলে দেখা যাবে এই তারকাকে? ক্রিকেট ভক্তরা এখন সেই উত্তরের অপেক্ষায়।