Cricket Australia Seals Josh Hazlewood, Pat Cummins and Mitchell Starc’s Fate For 2027 World Cup
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় অজি পেস ত্রয়ী
২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি এখন থেকেই শুরু করে দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট বোর্ড (CA)। আসন্ন পাকিস্তান সফরের জন্য ঘোষিত ওয়ানডে দল থেকে নিয়মিত অধিনায়ক প্যাট কামিন্স, জশ হ্যাজলউড এবং মিচেল স্টার্ককে বিশ্রাম দিয়ে অস্ট্রেলিয়া একটি সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছে। পাকিস্তান সফরের এই ওয়ানডে সিরিজে তাদের অনুপস্থিতি নতুন ক্রিকেটারদের জন্য নিজেদের প্রমাণ করার একটি দারুণ সুযোগ।
কেন এই বিশ্রাম?
ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া তাদের অভিজ্ঞ এই তিন বোলারকে নিয়ে বিশেষ সতর্ক। যদিও তারা আইপিএল ২০২৬-এর বর্তমান মরসুমে দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন, কিন্তু তাদের বয়স এবং কাজের চাপের (workload) কথা মাথায় রেখে বোর্ড তাদের আগলে রাখছে। অ্যাশেজ ২০২৫/২৬ সিরিজে প্যাট কামিন্স এবং জশ হ্যাজলউডের অনুপস্থিতিতে মিচেল স্টার্ককে যেভাবে একা সামলাতে হয়েছিল, তারপর থেকেই অস্ট্রেলিয়ান টিম ম্যানেজমেন্ট তাদের তারকাদের নিয়ে অত্যন্ত সাবধানী।
প্রধান কোচ অ্যান্ড্রু ম্যাকডোনাল্ড স্পষ্ট করেছেন যে, এই সিদ্ধান্তটি পুরোপুরি ম্যানেজমেন্টের। তিনি বলেন, ‘একটা ভুল ধারণা আছে যে খেলোয়াড়রা নিজেরাই ঠিক করে তারা কোথায় খেলবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, আমরা আসন্ন সূচি অনুযায়ী তাদের কাজের চাপ নিয়ন্ত্রণ করি।’ ম্যাকডোনাল্ড আরও যোগ করেন যে, খেলোয়াড়রা খেলতে চাইলেও, তাদের ভবিষ্যতের বড় সিরিজের কথা ভেবেই এই বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে।
নতুনদের সুযোগ ও প্রস্তুতি
কামিন্স, হ্যাজলউড এবং স্টার্কের অনুপস্থিতিতে ওয়ানডে দলের নেতৃত্ব দেবেন টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক মিচেল মার্শ। পাকিস্তান এবং বাংলাদেশ সফরের জন্য দলে জায়গা পেয়েছেন রাইলি মেরিডিথ, বিলি স্ট্যানলেক এবং লিয়াম স্কটের মতো তরুণ বোলাররা। এছাড়া জেভিয়ার বার্টলেট এবং বেন ডুয়ারশুইসকে বাংলাদেশ সিরিজের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
২০২৭ বিশ্বকাপের রোডম্যাপ
প্যাট কামিন্স, জশ হ্যাজলউড এবং মিচেল স্টার্ক গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে অস্ট্রেলিয়ান বোলিংয়ের মেরুদণ্ড হিসেবে কাজ করছেন। তাদের ক্যারিয়ার এখন পড়ন্ত বিকেলে, তবুও ২০২৭ বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চের জন্য তাদের ফিট রাখা বোর্ডের প্রধান লক্ষ্য। পাকিস্তান ও বাংলাদেশ সিরিজে তরুণদের পরখ করে দেখার পাশাপাশি অজি ম্যানেজমেন্ট নিশ্চিত করতে চায় যে মূল ইভেন্টের সময় তাদের সেরা পেসাররা যেন পুরোপুরি ফিট থাকেন।
- পাকিস্তান সফরের জন্য অস্ট্রেলিয়া ওয়ানডে দল: মিচেল মার্শ (অধিনায়ক), অ্যালেক্স ক্যারি, নাথান এলিস, ক্যামেরন গ্রিন, জশ ইংলিস, ম্যাথিউ কুনেমান, মার্নাস ল্যাবুশেন, রাইলি মেরিডিথ, অলিভার পিক, ম্যাথিউ রেনশ, তানভীর সংঘ, লিয়াম স্কট, ম্যাট শর্ট, বিলি স্ট্যানলেক, অ্যাডাম জাম্পা।
- বাংলাদেশ সফরের জন্য অস্ট্রেলিয়া ওয়ানডে দল: মিচেল মার্শ (অধিনায়ক), জেভিয়ার বার্টলেট, অ্যালেক্স ক্যারি, কুপার কনোলি, বেন ডুয়ারশুইস, নাথান এলিস, ক্যামেরন গ্রিন, ট্রাভিস হেড, জশ ইংলিস, ম্যাথিউ কুনেমান, মার্নাস ল্যাবুশেন, ম্যাথিউ রেনশ, তানভীর সংঘ, লিয়াম স্কট, অ্যাডাম জাম্পা।
অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট বোর্ডের এই কৌশলটি মূলত একটি ভারসাম্য রক্ষার প্রচেষ্টা। তারা জানে যে আধুনিক ক্রিকেটে ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্ট কতটা গুরুত্বপূর্ণ। যদি স্টার্ক, হ্যাজলউড এবং কামিন্স সুস্থ থাকেন এবং ফর্মে থাকেন, তবে ২০২৭ বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়া আবারো শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে মাঠে নামবে।