‘Uncapped’ Vaibhav Sooryavanshi Scripts Legacy With New IPL Benchmark – আইপিএল ২০২৬: ১৫ বছর বয়সী বৈভব সূর্যবংশীর অবিশ্বাস্য রেকর্ড
আইপিএল ২০২৬: বৈভব সূর্যবংশীর ব্যাটে নতুন রূপকথা
আইপিএল ২০২৬-এর প্লে-অফ পর্যায়ে এক কিশোরের অবিশ্বাস্য উত্থান দেখল ক্রিকেট বিশ্ব। মাত্র ১৫ বছর বয়সী রাজস্থান রয়্যালসের ওপেনার বৈভব সূর্যবংশী প্রমাণ করে দিয়েছেন যে বয়সের বাধা প্রতিভা বিকাশের পথে কোনো অন্তরায় নয়। চণ্ডীগড়ের মুল্লানপুর স্টেডিয়ামে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের (এসআরএইচ) বিপক্ষে এলিমিনেটর ম্যাচে তিনি যেভাবে ব্যাট চালিয়েছেন, তা আইপিএলের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
রেকর্ড ভাঙার নেশায় বৈভব
ম্যাচে টসে জিতে হায়দ্রাবাদ প্রথমে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নেয়, যা মুহূর্তের মধ্যেই বুমেরাং হয়ে দাঁড়ায়। বৈভব সূর্যবংশী শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিলেন এবং হায়দ্রাবাদের বোলারদের রীতিমতো দিশেহারা করে দেন। মাত্র ২৯ বলে ৯৭ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংস খেলে তিনি আইপিএলের দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়ার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গিয়েছিলেন। তার এই ইনিংসে ছিল ১২টি বিশাল ছক্কা ও ৫টি চার। ৩৩৪-এর স্ট্রাইক রেটে ব্যাটিং করে তিনি যে দাপট দেখিয়েছেন, তা আইপিএলের ইতিহাসে বিরল।
আনক্যাপড খেলোয়াড়দের তালিকায় সবার উপরে
এই ইনিংসের মাধ্যমে চলতি আইপিএল মরসুমে বৈভবের মোট রানের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৮০। এটি আইপিএলের ইতিহাসে কোনো ‘আনক্যাপড’ বা জাতীয় দলে সুযোগ না পাওয়া খেলোয়াড়ের এক মরসুমে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড। এর আগে এই রেকর্ডের অধিকারী ছিলেন তার সতীর্থ যশস্বী জয়সওয়াল, যিনি আইপিএল ২০২৩-এ রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে ৬২৬ রান করেছিলেন। বৈভব যেভাবে জয়সওয়ালের রেকর্ড ভেঙে নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছেন, তা ক্রিকেট বিশ্লেষকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে।
সুরেশ রায়নার রেকর্ড স্পর্শ
শুধু সর্বোচ্চ রান নয়, বৈভব আইপিএলের প্লে-অফ ইতিহাসে দ্রুততম অর্ধশতকের রেকর্ডেও ভাগ বসিয়েছেন। মাত্র ১৬ বলে হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করে তিনি সুরেশ রায়নার রেকর্ড স্পর্শ করেন। ২০১৪ সালের আইপিএল কোয়ালিফায়ার-২ ম্যাচে সুরেশ রায়না চেন্নাই সুপার কিংসের হয়ে ঠিক ১৬ বলেই অর্ধশতক হাঁকিয়েছিলেন। প্লে-অফের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে চাপের মুখে দাঁড়িয়ে এই কিশোরের এমন আত্মবিশ্বাস সত্যিই অবাক করার মতো।
সেঞ্চুরি মিস করার আক্ষেপ
৯৭ রানে আউট হয়ে সেঞ্চুরি মিস করাটা বৈভবের জন্য বড় আক্ষেপের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ক্রিস গেইলের দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড (৩০ বলে ১০০ রান) ভাঙার সুযোগ ছিল তার সামনে। কিন্তু প্রফুল্ল হিঞ্জের করা বলে আপার কাট করতে গিয়ে থার্ড ম্যান অঞ্চলে স্মরন রবিচন্দ্রনের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান তিনি। মাঠ ছাড়ার সময় তার চোখে-মুখে ছিল তীব্র হতাশা। এমনকি নিজের মাথার ওপর ব্যাট দিয়ে আঘাত করেও তিনি নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তবে বিপক্ষ দলের খেলোয়াড়রাও তার প্রতি সম্মান জানিয়ে তাকে পিঠ চাপড়ে দিয়েছেন, কারণ তারা জানতেন তারা আজ একজন ভবিষ্যৎ তারকার জন্ম নিতে দেখেছেন।
উপসংহার
রাজস্থান রয়্যালসের জন্য এই এলিমিনেটর ম্যাচটি ছিল বাঁচা-মরার লড়াই। সেই লড়াইয়ে বৈভবের এই ঐতিহাসিক শুরু দলকে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। তার এই ফর্ম যদি আগামী ম্যাচগুলোতেও অব্যাহত থাকে, তবে রাজস্থান রয়্যালসের শিরোপা জয়ের স্বপ্ন আরও শক্তিশালী হবে। ১৫ বছর বয়সী এই ক্রিকেটারের ভবিষ্যৎ যে অত্যন্ত উজ্জ্বল, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। ক্রিকেটপ্রেমীরা এখন অপেক্ষায় আছেন পরবর্তী ম্যাচে তার ব্যাট থেকে আরও দুর্দান্ত কিছু দেখার জন্য।