Cricket News

Suresh Raina’s 87 Off 25: The IPL Knock That Lasted 30 Minutes But Lives On Fore – সুরেশ রায়নার ২৫ বলে ৮৭: যে আইপিএল ইনিংস ৩০ মিনিটেই অমর হয়ে আছে

Reyansh Mittal · · 1 min read
Share

আইপিএলের ঝলমলে ইতিহাসে এমন কিছু ইনিংস আছে যা কেবল নির্দিষ্ট একটি ম্যাচের ফলাফল পরিবর্তন করেনি, বরং সময়ের সীমা অতিক্রম করে কিংবদন্তির মর্যাদা লাভ করেছে। এই ধরনের ইনিংসগুলির মধ্যে অন্যতম একটি হলো ২০১৪ সালের ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) কোয়ালিফায়ার ২-এ চেন্নাই সুপার কিংসের (সিএসকে) তারকা ব্যাটসম্যান সুরেশ রায়নার বিধ্বংসী ৮৭ রানের ইনিংস। কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের বিরুদ্ধে মাত্র ২৫ বলে খেলা এই ইনিংসটি, যা প্রায় ৩০ মিনিট স্থায়ী হয়েছিল, আজও ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে টাটকা এক স্মৃতির মতো। যখনই টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে কোনও ব্যাটসম্যান ধ্বংসাত্মক ব্যাটিংয়ের উদাহরণ তৈরি করেন, তখনই সুরেশ রায়নার এই অসাধারণ ইনিংসটির কথা আলোচনায় উঠে আসে।

একটি ঐতিহাসিক ম্যাচের প্রেক্ষাপট

২০১৪ সালের আইপিএলে চেন্নাই সুপার কিংস এবং কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব, উভয় দলই লিগ পর্বে দারুণ খেলেছিল। ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করার জন্য মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয়েছিল তারা। পাঞ্জাব প্রথমে ব্যাট করে অসাধারণ ব্যাটিং নৈপুণ্য দেখিয়েছিল। বিরেন্দর শেবাগ এবং ডেভিড মিলারের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ের সুবাদে তারা নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ২২৬ রানের বিশাল সংগ্রহ গড়ে তোলে। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ২২৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করা সবসময়ই একটি কঠিন কাজ, বিশেষ করে এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে।

ফাফ ডু প্লেসিসের দ্রুত বিদায় এবং রায়নার আগমন

সিএসকের জন্য রান তাড়ার শুরুটা ছিল হতাশাজনক। ইনিংসের প্রথম ওভারেই ওপেনার ফাফ ডু প্লেসিস শূন্য রানে ফিরে যান। এই পরিস্থিতিতে যখন দলের ওপর চাপ বাড়ছিল, তখনই ক্রিজে আসেন সুরেশ রায়না, যা নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই ছিল। ক্রিজে আসার পর থেকেই রায়না যেন এক অন্য মেজাজে ছিলেন। তার ব্যাট থেকে যে বিধ্বংসী ঝড় উঠবে, তা হয়তো পাঞ্জাবের বোলাররা কল্পনাও করতে পারেননি।

রায়নার ব্যাটে ধ্বংসলীলা: ২৫ বলে ৮৭ রানের অবিশ্বাস্য ইনিংস

একবার ক্রিজে সেট হওয়ার পর সুরেশ রায়না প্রতিটি বোলারকে লক্ষ্য করে আক্রমণ শুরু করেন। পাঞ্জাবের বোলাররা, যাদের মধ্যে ছিলেন অভিজ্ঞ মিচেল জনসন, সুইং বোলার সন্দীপ শর্মা এবং পারভিন্দর আওয়ানার মতো বৈচিত্র্যপূর্ণ বোলার, তাদের কেউই রায়নার সামনে দাঁড়াতে পারেননি। রায়না প্রতিটি দিক থেকেই বাউন্ডারি এবং ওভার-বাউন্ডারি হাঁকাতে শুরু করেন। তার ব্যাট থেকে আসা শটগুলি ছিল মনোমুগ্ধকর – কভার দিয়ে ড্রাইভ, মিড-উইকেটের ওপর দিয়ে ছক্কা, ফাইন লেগের দিকে ফ্লিক, প্রতিটি শটেই ছিল আগ্রাসন এবং আত্মবিশ্বাস।

এই ইনিংসের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো এর গতি। সুরেশ রায়না মাত্র ১৬ বলে তার অর্ধশতক পূর্ণ করেন, যা আইপিএলের দ্রুততম অর্ধশতকগুলির মধ্যে অন্যতম। এরপরও তিনি থামেননি। মাত্র ২৫ ডেলিভারি মোকাবেলা করে তিনি ১২টি চার এবং ৮টি বিশাল ছক্কার সাহায্যে ৮৭ রানের এক অবিশ্বাস্য ইনিংস খেলেন। ভাবতে অবাক লাগে যে, তিনি যে ২৫টি বল খেলেছিলেন, তার মধ্যে মাত্র ৭টি বলে কোনো রান বাউন্ডারি বা ওভার-বাউন্ডারি হয়নি। এই তথ্যই প্রমাণ করে তার ব্যাটিংয়ের কতটা দাপট ছিল সেই দিন। পাওয়ারপ্লেতে তিনি একাই পাঞ্জাবের বোলিং আক্রমণকে ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছিলেন।

পাওয়ারপ্লেতে ১০০ রান: এক বিরল দৃষ্টান্ত

সুরেশ রায়নার এই বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের সুবাদে চেন্নাই সুপার কিংস পাওয়ারপ্লে (প্রথম ৬ ওভার) শেষ হওয়ার আগেই ১০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করে ফেলে, যা টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ইতিহাসে এক বিরল কৃতিত্ব। সেই সময় দলটির স্কোর ছিল ২ উইকেটে ১০০ রান, যার মধ্যে রায়নার একার অবদান ছিল ৮৭ রান। তার এই পারফরম্যান্স এমন এক সময়ে এসেছিল যখন দল একটি বিশাল লক্ষ্য তাড়া করছিল এবং একটি দ্রুত শুরুর প্রয়োজন ছিল। তিনি সেই কাজটি একাই করে দেখিয়েছিলেন, যা অবিশ্বাস্য বলে মনে হয়েছিল।

জর্জ বেইলির সরাসরি থ্রো এবং ম্যাচের মোড়

রায়নার ইনিংসটি শেষ হয় এক দুর্ভাগ্যজনক রান আউটের মাধ্যমে। জর্জ বেইলির সরাসরি থ্রোতে তিনি রান আউট হয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন। যখন রায়না আউট হন, তখন সিএসকের স্কোর ছিল ১০০ রান এবং জয়ের জন্য ৮৩ বলে আরও ১২৭ রান প্রয়োজন ছিল। তৃতীয় উইকেট হারানোর পরেও মনে হচ্ছিল, এই রান তাড়া করা চেন্নাইয়ের জন্য খুব কঠিন হবে না, কারণ তখনও তাদের হাতে অনেক ব্যাটসম্যান ছিল এবং প্রয়োজনীয় রান রেটও নিয়ন্ত্রণে ছিল।

তবে, রায়নার বিদায়ের পর ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। তার মতো আক্রমণাত্মক ব্যাটিং চালিয়ে যাওয়ার মতো আর কেউ ছিল না। পাঞ্জাবের বোলাররা ফিরে এসে দারুণ বোলিং করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিতে শুরু করে। চেন্নাইয়ের বাকি ব্যাটসম্যানরা রায়নার তৈরি করা মোমেন্টাম ধরে রাখতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত, কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব ২৪ রানে জয়লাভ করে এবং আইপিএল ফাইনালে তাদের জায়গা নিশ্চিত করে।

এক দশকেরও বেশি সময় পরেও অমর এই ইনিংস

এই ইনিংসটির সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অংশ হলো, এটি একটি পরাজিত দলের হয়ে খেলা হয়েছিল। সাধারণত, পরাজয়ের কারণে অনেক দুর্দান্ত পারফরম্যান্সই সময়ের সাথে সাথে বিস্মৃতির অতলে তলিয়ে যায়। কিন্তু সুরেশ রায়নার ২৫ বলে ৮৭ রানের ইনিংসটি এতটাই অসাধারণ ছিল যে ক্রিকেটপ্রেমীরা এটি ভুলতে পারেননি। এক দশক পরেও, যখন আইপিএলের সেরা বা সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক ইনিংস নিয়ে আলোচনা হয়, তখন এই ইনিংসটি প্রায়শই তালিকার শীর্ষে থাকে।

যদিও ক্রিস গেইল আইপিএলের ইতিহাসে ২৫ বলের উইন্ডোতে সর্বোচ্চ রান করার রেকর্ড ধরে রেখেছেন, তবে কোনো ব্যাটসম্যানই তার প্রথম ২৫ বলে রায়নার ৮৭ রানকে ছাড়িয়ে যেতে পারেননি। এটি রায়নার ইনিংসের অনন্যতা প্রমাণ করে। ওয়াংখেড়েতে মাত্র আধ ঘণ্টা স্থায়ী হলেও, সুরেশ রায়নার এই শ্বাসরুদ্ধকর ৮৭ রানের ইনিংসটি টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ধ্বংসাত্মক ব্যাটিংয়ের এক নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছে। এটি কেবল একটি ইনিংস ছিল না, ছিল ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য এক অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতা, যা চিরকাল আইপিএলের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।

Reyansh Mittal
Reyansh Mittal

From T20 explosions to the classic Test grind. Covering every boundary and wicket with relentless passion and energy.