ভাইটালিটি ব্লাস্টে ল্যাঙ্কাশায়ারকে হারিয়ে সারের দুর্দান্ত জয়
ভাইটালিটি ব্লাস্টে সারের রাজকীয় সূচনা
ভাইটালিটি ব্লাস্টের নতুন মৌসুমের শুরুতেই নিজেদের শক্তির জানান দিল বর্তমান চ্যাম্পিয়ন সারে। কিয়া ওভালে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী ম্যাচে ল্যাঙ্কাশায়ার থান্ডারকে ছয় উইকেটের ব্যবধানে হারিয়ে টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত শুরু করল দলটি। ল্যাঙ্কাশায়ারের দেওয়া ১৮৬ রানের লক্ষ্যমাত্রা তাড়া করতে নেমে সারে জয় তুলে নিয়েছে সাত বল হাতে রেখেই। এই জয়ে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছেন অধিনায়ক ব্রায়নি স্মিথ, যিনি দীর্ঘদিন রানখরায় ভোগার পর যেন স্বরূপে ফিরে এসেছেন।
ল্যাঙ্কাশায়ারের শক্তিশালী ব্যাটিং প্রদর্শনী
টস জিতে ব্যাটিং করতে নামা ল্যাঙ্কাশায়ার থান্ডার শুরু থেকেই আগ্রাসী মেজাজে ছিল। ইভ জোন্স ল্যাঙ্কাশায়ারের ব্যাটিংয়ের মূল স্তম্ভ হিসেবে দাঁড়িয়ে ৩১ বলে ৫৬ রানের একটি দুর্দান্ত ইনিংস উপহার দেন। এছাড়া অভিষেকের অপেক্ষায় থাকা সাবেক অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক মেগ ল্যানিং ২২ বলে ৪০ রান করে দলের সংগ্রহকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করেন। ড্যানি গ্রেগরির প্রথম ওভার থেকেই ২২ রান তুলে ল্যাঙ্কাশায়ার বুঝিয়ে দেয় তারা বড় সংগ্রহের লক্ষ্যেই মাঠে নেমেছে। পাওয়ারপ্লের পর ইভ জোন্স আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন এবং মাত্র ২৬ বলে অর্ধশতক পূরণ করেন। তবে জেমিমা স্পেন্সের অসাধারণ ক্যাচে জোন্সের বিদায়ের পর ল্যাঙ্কাশায়ারের রানের গতি কিছুটা কমে আসে। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারে দলটি ১৮৫ রান সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়। সারের পক্ষে রিয়ানা ম্যাকডোনাল্ড-গে কোনো উইকেট না পেলেও অত্যন্ত কিপটে বোলিং করে মাত্র ২৩ রান খরচ করেন, যা দলের জন্য বড় স্বস্তি ছিল।
স্মিথের ব্যাটে সারের পাল্টা জবাব
লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে সারে শুরু থেকেই ল্যাঙ্কাশায়ার বোলারদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। অধিনায়ক ব্রায়নি স্মিথ মাত্র ৩৫ বলে ৭১ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন, যেখানে ছিল ১০টি চার ও তিনটি বিশাল ছক্কা। যদিও ইনিংসের শুরুতে তিনি কিছুটা ভাগ্যবান ছিলেন, তবে জীবন পাওয়ার পর তিনি পুরো মাঠে শটের পসরা সাজিয়ে বসেন। তাকে দারুণ সঙ্গ দেন অ্যালিস ডেভিডসন-রিচার্ডস, যিনি ৪৭ রানে অপরাজিত থেকে দলের জয় নিশ্চিত করেন। পাওয়ারপ্লের মাঝপথেই সারে জয়ের ভিত গড়ে ফেলেছিল। স্মিথ যখন ২৭ বলে অর্ধশতক পূর্ণ করেন, তখন সারের জয়ের পথ অনেকটাই প্রশস্ত হয়ে যায়। যদিও স্মিথ এবং লরা হ্যারিস দ্রুত প্যাভিলিয়নে ফিরে গেলে কিছুটা উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছিল, তবে ডেভিডসন-রিচার্ডসের অবিচল ব্যাটিং তা হতে দেয়নি। শেষদিকে একটি ছক্কা মেরে তিনি জয় নিশ্চিত করেন।
ফিল্ডিংয়ে সারের নৈপুণ্য
বোলিং ও ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি সারের ফিল্ডিংও ছিল চোখে পড়ার মতো। তাদের গ্রাউন্ড ফিল্ডিং ল্যাঙ্কাশায়ারকে বড় স্কোর গড়তে বাধা দিয়েছে। বিশেষ করে পেইজ স্কোফিল্ডের দুর্দান্ত রান-আউটটি ছিল ম্যাচের অন্যতম সেরা মুহূর্ত, যা সারেন ড্রেসিংরুমে প্রাণ ফিরিয়ে আনে। বাউন্ডারি লাইনেও ফিল্ডাররা অসাধারণ তৎপরতা দেখিয়েছেন, যা ল্যাঙ্কাশায়ারের ব্যাটারদের বড় শট খেলা থেকে বিরত রেখেছে।
উপসংহার
এই জয় সারের খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। গত কয়েক ম্যাচে ব্যাট হাতে সংগ্রাম করা স্মিথের এই ফর্মে ফেরা চ্যাম্পিয়ন দলের জন্য বড় স্বস্তির খবর। অন্যদিকে, ল্যাঙ্কাশায়ার ভালো সংগ্রহ দাঁড় করালেও বোলিংয়ে সারের চাপের মুখে পড়ে হার মানতে বাধ্য হয়েছে। টুর্নামেন্টের বাকি ম্যাচগুলোতে সারে তাদের এই ছন্দ ধরে রাখতে পারলে আবারও শিরোপা ধরে রাখার দাবিদার হবে তাতে সন্দেহ নেই। কিয়া ওভালের গ্যালারিতে উপস্থিত দর্শকরা সারের এই দাপুটে পারফরম্যান্স উপভোগ করেছেন এবং এমন ক্রিকেটই প্রত্যাশা করেন ভক্তরা।