ভাইটালিটি ব্লাস্ট: ডারহামের কাছে রোমাঞ্চকর ম্যাচে হার ডার্বিশায়ারের
ভাইটালিটি ব্লাস্টের রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে ডারহামের জয়
ডার্বিশায়ারের কো-অপ কাউন্টি গ্রাউন্ডে ভাইটালিটি ব্লাস্ট নর্থ গ্রুপের এক শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে ডারহাম ৬ রানে পরাজিত করেছে ডার্বিশায়ার ফ্যালকনসকে। ডারহামের দেওয়া ২০৪ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ডার্বিশায়ার শেষ পর্যন্ত ৮ উইকেটে ১৯৭ রান তুলতে সক্ষম হয়। ম্যাচের শেষ ওভারে ম্যাথু পটসের অসাধারণ বোলিং ডারহামকে জয় এনে দেয়।
ডারহামের দুর্দান্ত শুরু
প্রথমে ব্যাটিং করতে নেমে ডারহাম নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ২০৩ রানের বড় সংগ্রহ দাঁড় করায়। দলের পক্ষে ওপেনার অ্যালেক্স লিস ২৮ বলে ৫৪ রানের একটি ঝোড়ো ইনিংস খেলেন। এছাড়া অলি রবিনসন ২৪ বলে ৪৮ রানের কার্যকরী অবদান রাখেন। ডার্বিশায়ারের হয়ে স্পিনার জ্যাক মরলি ৩৫ রানে ৩টি উইকেট শিকার করে ডারহামের রান তোলার গতি কিছুটা কমিয়ে দিয়েছিলেন। পাওয়ারপ্লে চলাকালীন ডারহামের ব্যাটাররা ৬৬ রান সংগ্রহ করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয়। লিস শুরুতে বেশ আক্রমণাত্মক ছিলেন, তবে অষ্টম ওভারে বেন অ্যাচিসনের বলে তিনি আউট হওয়ার পর ডারহামের মিডল অর্ডার কিছুটা চাপে পড়েছিল। জ্যাক মরলি পরপর উইকেট তুলে নিয়ে ডার্বিশায়ারকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনেন।
রবিনসনের ব্যাটিং তাণ্ডব ও ডার্বিশায়ারের লড়াই
মাঝের ওভারগুলোতে ডারহামের রান তোলার গতি কমে এলেও অলি রবিনসন ১৫তম ওভারে রস হোয়াইটলিকে আক্রমণ করে ৩টি ছক্কা হাঁকান। সেই ওভার থেকে মোট ২৭ রান আসে, যা ডারহামকে ২০০ রানের কোটা পার করতে সহায়তা করে। শেষ ৫ ওভারে ডার্বিশায়ারের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের কারণে ডারহাম মাত্র ৩৯ রান যোগ করতে পারে। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ডার্বিশায়ার শুরুটা ভালো করলেও নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে। অধিনায়ক অ্যানেউরিন ডোনাল্ড ইনিংসের শুরুতে ভালো কিছুর ইঙ্গিত দিলেও ক্যালাম পার্কিনসনের প্রথম বলেই এলবিডব্লিউ হয়ে মাঠ ছাড়েন।
মন্টগোমারির বীরত্ব ও পটসের স্নায়ুচাপ জয়
ম্যাচের আসল উত্তেজনা ছিল শেষ ওভারে। জয়ের জন্য ডার্বিশায়ারের প্রয়োজন ছিল ১৮ রান। ক্রিজে ছিলেন সেট ব্যাটার ম্যাট মন্টগোমারি। তিনি প্রথম দুই বলে ১০ রান তুলে ডারহাম শিবিরে ভয়ের সঞ্চার করেছিলেন। তবে এরপরই ম্যাথু পটস নিজের অভিজ্ঞতার পরিচয় দেন। নো-বল বিতর্ক এবং চাপের মুখেও পটস দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়ান। তিনি পর পর তিনটি ডট বল করে ম্যাচটি ডারহামের দিকে ঘুরিয়ে দেন। শেষ পর্যন্ত মন্টগোমারির অপরাজিত ৭৪ রানের (৪৫ বল) বীরত্বপূর্ণ ইনিংসটি বৃথা যায়। হোয়াইটলি ৪৪ বলে ৪৫ রানের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেললেও তা জয় নিশ্চিত করার জন্য যথেষ্ট ছিল না।
ম্যাচের সারসংক্ষেপ
- ডারহাম: ২০৩/৮ (লিস ৫৪, রবিনসন ৪৮, মরলি ৩-৩৫)
- ডার্বিশায়ার: ১৯৭/৮ (মন্টগোমারি ৭৪*, হোয়াইটলি ৪৫, পার্কিনসন ৩-৩৮)
- ফলাফল: ডারহাম ৬ রানে জয়ী।
এই জয়ে ডারহাম পয়েন্ট টেবিলে নিজেদের অবস্থান মজবুত করল। অন্যদিকে, ম্যাট মন্টগোমারির লড়াই সত্ত্বেও ডার্বিশায়ারের বোলাররা শুরুর দিকে রান আটকানোর সুযোগ হাতছাড়া করায় শেষ পর্যন্ত হারের মুখ দেখতে হলো তাদের। পটসের শেষ ওভারের বোলিং এই টি-টোয়েন্টি ম্যাচে জয়ের অন্যতম মূল চাবিকাঠি হিসেবে গণ্য হবে। ক্রিকেটপ্রেমীরা এমন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচই আশা করেন, যেখানে ম্যাচের ভাগ্য শেষ বল পর্যন্ত অনিশ্চিত থাকে।