এমএস ধোনির অনুপস্থিতি ও সিএসকে-র বিভ্রান্তিকর আচরণ: শ্রীকান্তের তোপ
আইপিএল ২০২৬: এমএস ধোনির রহস্যময় অনুপস্থিতি
আইপিএল ২০২৬ মৌসুমটি চেন্নাই সুপার কিংসের (সিএসকে) সমর্থকদের জন্য ছিল এক দীর্ঘ অপেক্ষার নাম। দলের প্রাণভোমরা এমএস ধোনি ফিরবেন কি ফিরবেন না, তা নিয়ে পুরো আসর জুড়ে চলেছে নাটকীয় জল্পনা-কল্পনা। তবে শেষ পর্যন্ত ভক্তদের হতাশ করে কিংবদন্তি এই উইকেটকিপার-ব্যাটার পুরো মৌসুমে একটি ম্যাচেও মাঠে নামেননি। আইপিএলের ইতিহাসে এটিই প্রথমবার, যখন ধোনি কোনো মৌসুম পুরোপুরি মিস করলেন।
ধোনির ইনজুরি নিয়ে ধোঁয়াশা
মৌসুমের শুরুতে জানা গিয়েছিল, পায়ের মাংসপেশির চোটে ধোনি দুই সপ্তাহ মাঠের বাইরে থাকবেন। কিন্তু সেই সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পরও ধোনির ফেরা নিয়ে সিএসকে ম্যানেজমেন্টের তরফ থেকে বারবার পরস্পরবিরোধী তথ্য দেওয়া হয়েছে। প্রথমে বলা হয়েছিল তিনি দ্রুত সেরে উঠছেন, আবার কখনো বলা হয়েছে তিনি ইনজুরি থেকে পুরোপুরি মুক্তি পাননি। গুজরাট টাইটানসের বিপক্ষে শেষ লিগ ম্যাচের আগে ধোনির বুড়ো আঙুলে চোটের খবরও ছড়িয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত ধোনিকে ছাড়াই সিএসকে বিদায় নেয় প্লে-অফের দৌড় থেকে।
সিএসকে-র পারফরম্যান্স: ধোনির অভাব কি অনুভূত হয়েছে?
ঋতুরাজ গায়কোয়াড়ের নেতৃত্বে সিএসকে-র পারফরম্যান্সে ধারাবাহিকতার অভাব ছিল স্পষ্ট। ৫ বারের চ্যাম্পিয়নরা ১৪ ম্যাচে মাত্র ৬টি জয় ও ১২ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের নিচের দিকে অবস্থান করে। ধোনির অনুপস্থিতি যে দলের ওপর মানসিকভাবে বড় প্রভাব ফেলেছে, তা নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে কোনো দ্বিমত নেই। সানজু স্যামসনসহ কয়েকজন খেলোয়াড় চেষ্টা করলেও, শেষ পর্যন্ত প্লে-অফে ওঠা সম্ভব হয়নি হলুদ বাহিনীর পক্ষে।
কৃষ্ণমাচারি শ্রীকান্তের তীব্র ক্ষোভ
সিএসকে ম্যানেজমেন্টের এই অস্পষ্ট নীতি মানতে পারছেন না ভারতের সাবেক ক্রিকেটার কৃষ্ণমাচারি শ্রীকান্ত। নিজের ইউটিউব চ্যানেলে তিনি সরাসরি সিএসকে ফ্র্যাঞ্চাইজি, অধিনায়ক ঋতুরাজ গায়কোয়াড় এবং কোচ স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের সমালোচনা করেছেন। তার মতে, সমর্থকরা ধোনির খেলার অপেক্ষায় থাকলেও ফ্র্যাঞ্চাইজি তাদের ভুল পথে চালিত করেছে।
‘ভক্তদের সাথে প্রতারণা বন্ধ করুন’
শ্রীকান্ত অত্যন্ত কঠোর ভাষায় বলেন, ‘মৌসুম শুরুর আগে থেকেই তারা বলেছিল ধোনির পায়ের চোট রয়েছে এবং সে দ্রুত ফিরবে। ফ্লেমিং এবং গায়কোয়াড় একই কথার পুনরাবৃত্তি করে গেছেন যে, পরের ম্যাচেই হয়তো তাকে পাওয়া যাবে। যখনই ম্যাচের সময় আসত, সিএসকে তাদের সোশ্যাল মিডিয়ায় ধোনির অনুশীলনের ভিডিও প্রকাশ করত, যাতে ভক্তরা মনে করেন তিনি फिट। কিন্তু ম্যাচের দিন জানা যেত তিনি খেলছেন না। এই ধরনের বিভ্রান্তি ছড়ানো বন্ধ করা উচিত।’
স্বচ্ছতার অভাব কি সিএসকে-র ভুল?
শ্রীকান্তের মতে, যদি ধোনির খেলার সম্ভাবনা না থাকতো, তবে ফ্র্যাঞ্চাইজির উচিত ছিল শুরুতেই তা পরিষ্কার করে দেওয়া। তিনি মন্তব্য করেন, ‘যদি ধোনি পুরো মৌসুমেই খেলবে না, তবে সেটি স্পষ্টভাবে বলে দেওয়াই ছিল সঠিক পথ। ভক্তরা মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকত। কিন্তু এভাবে বারবার আশা দেখিয়ে পরে হতাশ করাটা মোটেও পেশাদারিত্বের লক্ষণ নয়।’
আইপিএল ২০২৬-এর এই ঘটনাটি কেবল একটি ফ্র্যাঞ্চাইজির ব্যর্থতা নয়, বরং বড় তারকাদের ঘিরে তৈরি হওয়া ব্যবসায়িক কৌশলের সীমাবদ্ধতাকেও আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল। সিএসকে সমর্থকরা এখন তাকিয়ে আছেন পরবর্তী মৌসুমের দিকে, কিন্তু এবারের এই বিতর্কিত অধ্যায় ফ্র্যাঞ্চাইজির স্বচ্ছতা নিয়ে অনেক বড় প্রশ্নচিহ্ন রেখে গেল।