এমএস ধোনির উপস্থিতিতে সিএসকে-র কোচ নিয়োগে বড় সংকট
চেন্নাই সুপার কিংসের কোচিং ডেরায় ধোনি-সংকট
আইপিএল ২০২৬-এ চেন্নাই সুপার কিংসের (সিএসকে) পারফরম্যান্স মোটেও সুখকর ছিল না। পয়েন্ট টেবিলের নিচের দিকে থেকে লিগ পর্ব শেষ করায় এখন দলের সার্বিক নেতৃত্বে পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। তবে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি নতুন কোচ নিয়োগের ক্ষেত্রে এক অদ্ভুত পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এমএস ধোনির উপস্থিতির কারণে বেশ কয়েকজন অভিজ্ঞ কোচ চেন্নাইয়ের দায়িত্ব নিতে ভয় পাচ্ছেন।
কেন কোচদের অনাগ্রহ?
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোচদের মধ্যে মূল ভয়ের জায়গাটি হলো দলের ওপর ধোনির নিয়ন্ত্রণ। প্রার্থীরা আশঙ্কা করছেন যে, ধোনি যদি দলের সাথে যুক্ত থাকেন, তবে কোচ হিসেবে তাদের কাজের পরিধি এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কতটা থাকবে তা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়। এমনও শোনা যাচ্ছে, বেশ কয়েকজন বড় মাপের ভারতীয় কোচ ধোনি দলে থাকা পর্যন্ত দায়িত্ব নিতে রাজি হননি। তাদের মতে, মাঠের বাইরের কর্মকাণ্ডে ধোনির প্রভাব এতটাই বেশি যে সেখানে একজন হেড কোচের নিজস্ব দর্শন বাস্তবায়ন করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।
রুতুরাজ গায়কোয়াড়ের নেতৃত্ব ও টানা ব্যর্থতা
২০২৩ সালে পঞ্চমবারের মতো শিরোপা জেতার পর থেকে সিএসকে গত তিন বছর ধরে প্লে-অফে উঠতে ব্যর্থ হয়েছে। রুতুরাজ গায়কোয়াড়ের নেতৃত্বে দলটির পারফরম্যান্সে ধারাবাহিকতার অভাব প্রকট ছিল। ২০২৬ সালে রুতুরাজ পুরো মৌসুমের অধিনায়ক থাকলেও, দলের ইনজুরি সমস্যা এবং খেলোয়াড়দের অফ-ফর্ম চেন্নাইকে পয়েন্ট টেবিলের তলানিতে ঠেলে দিয়েছে। শুরুর দিকের তিন ম্যাচ হারের পর কিছুটা লড়াই করলেও শেষদিকে টানা হারে প্লে-অফের স্বপ্ন ভেঙে যায় তাদের।
স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের ভবিষ্যৎ কি অনিশ্চিত?
২০০৮ সাল থেকে চেন্নাই সুপার কিংসের অবিচ্ছেদ্য অংশ স্টিফেন ফ্লেমিং। খেলোয়াড় হিসেবে শুরু করে পরে দীর্ঘ সময় প্রধান কোচের দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। ধোনি ও ফ্লেমিংয়ের যুগলবন্দী চেন্নাইকে পাঁচটি আইপিএল ট্রফি এনে দিয়েছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে ফ্লেমিংয়ের কোচিং ক্যারিয়ারও প্রশ্নের মুখে। ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকরা যদি পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেন, তবে সবার আগে ফ্লেমিংয়ের নামই আলোচনায় আসতে পারে। তবে সূত্র অনুযায়ী, ফ্লেমিংয়ের ভবিষ্যৎ চূড়ান্ত হবে ধোনির সিদ্ধান্তের পরেই।
এমএস ধোনির আইপিএল ভবিষ্যৎ
২০২৬ মৌসুমে ধোনির অংশগ্রহণ ছিল খুবই সীমিত। চোটের কারণে তিনি বেশ কিছু ম্যাচ মিস করেছেন। তার শেষ ম্যাচটি ছিল ঘরের মাঠে, যেখানে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের কাছে হারের পর তাকে বিদায়ী সংবর্ধনার আদলে মাঠ প্রদক্ষিণ করতে দেখা যায়। ধোনি কি ২০২৭ সালে খেলবেন? এই প্রশ্নটি এখন সিএসকে সমর্থকদের মুখে মুখে। শোনা যাচ্ছে, তিনি চিপক স্টেডিয়ামে নিজের শেষ ম্যাচ খেলার তীব্র আকাঙ্ক্ষী। আবার অন্যদিকে, দলের অভ্যন্তরীণ বিবাদের খবরও ধোঁয়াশা বাড়াচ্ছে।
উপসংহার
চেন্নাই সুপার কিংস এখন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। দলের সাফল্যের মূল চাবিকাঠি যারা ছিলেন, তারাই এখন নতুন করে গড়ার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন কি না—তা নিয়ে ফ্র্যাঞ্চাইজি কর্তৃপক্ষকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ধোনির দীর্ঘ ছায়া কাটিয়ে সিএসকে কি পুনরায় ঘুরে দাঁড়াতে পারবে? নাকি কোচ ও নেতৃত্বের এই টানাপোড়েন আরও দীর্ঘায়িত হবে? উত্তর পেতে আমাদের অপেক্ষায় থাকতে হবে পরবর্তী আইপিএল নিলাম ও রিটেনশন প্রক্রিয়ার দিকে।
ক্রিকেট বিশ্বের প্রতিটি আপডেট পেতে আমাদের সাথেই থাকুন। আমরা চেষ্টা করি ক্রিকেটের প্রতিটি পর্দার পেছনের সত্য তুলে ধরতে, যা আপনাকে খেলার গভীরে নিয়ে যাবে।