Rasikh Salam-Rahul Tewatia In Death Stare Competition, RCB Players Gather – IPL 2026: রাজত পাটিদারের তাণ্ডব ও রাসিখ-তেওয়াটিয়ার উত্তপ্ত বিতর্ক
আইপিএল ২০২৬: একপেশে ম্যাচে আরসিবির দাপট ও মাঠের উত্তাপ
২৬ মে, ধরমশালার হিমাচল প্রদেশ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন স্টেডিয়ামে আইপিএল ২০২৬-এর প্রথম কোয়ালিফায়ার ম্যাচটি ছিল এক কথায় আরসিবির আধিপত্যের প্রতিফলন। গুজরাট টাইটানসের বিরুদ্ধে ৯২ রানের বিশাল জয় নিয়ে ফাইনালে নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করেছে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। রজত পাটিদারের অভাবনীয় ইনিংস যেমন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল, তেমনই মাঠের ভেতরে রাসিখ সালাম ও রাহুল তেওয়াটিয়ার মধ্যে ঘটে যাওয়া উত্তপ্ত বিতর্ক দর্শকদের বাড়তি উত্তেজনা দিয়েছে।
রজত পাটিদারের বিধ্বংসী ব্যাটিং
টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে আরসিবি রানের পাহাড় গড়ে। নির্ধারিত ২০ ওভারে তারা সংগ্রহ করে ২৫৪/৫। বিরাট কোহলি ২৫ বলে ৪৩ রান করে শুরুটা ভালো করলেও আসল ঝড়টি আসে অধিনায়ক রজত পাটিদারের ব্যাট থেকে। মাত্র ৩৩ বলে অপরাজিত ৯৩ রানের এক মহাকাব্যিক ইনিংস খেলেন তিনি। ৯টি বিশাল ছক্কা ও ৫টি চারে সাজানো তার এই ইনিংসের স্ট্রাইক রেট ছিল ২৮১.৮১, যা গুজরাট টাইটানসের বোলারদের মনোবল পুরোপুরি ভেঙে দেয়।
রাসিখ সালাম ও রাহুল তেওয়াটিয়ার বাকযুদ্ধ
গুজরাট টাইটানসের ব্যাটিং ইনিংস যখন ধসে পড়ার মুখে, তখন রাহুল তেওয়াটিয়া কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। সেই সময় মাঝের ওভারগুলোতে রাসিখ সালামের সঙ্গে তার তীব্র কথা কাটাকাটি হয়। রাসিখকে ছক্কা ও চার মারার পর তেওয়াটিয়া তাকে চ্যালেঞ্জ জানান, পাল্টা জবাবে রাসিখও তেওয়াটিয়াকে ছক্কা মারার আহ্বান জানান। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে শেষ পর্যন্ত আরসিবি উইকেটরক্ষক জিতেশ শর্মা এসে দুই খেলোয়াড়কে শান্ত করেন। মাঠের এই ঘটনাটি উপস্থিত খেলোয়াড় ও দর্শকদের বেশ কয়েক মুহূর্তের জন্য থমকে দিয়েছিল।
বল হাতে রাসিখের অসামান্য নৈপুণ্য
বিতর্ক বা বাকযুদ্ধ যাই হোক না কেন, বল হাতে রাসিখ সালাম ছিলেন দুর্দান্ত। ৩ ওভারে ১ মেডেনসহ ২৪ রান দিয়ে তিনি তুলে নেন ২ গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। পাওয়ারপ্লে চলাকালীন নিশান্ত সিন্ধু এবং জেসন হোল্ডারকে সাজঘরে পাঠিয়ে গুজরাটের ব্যাটিং লাইনআপের মেরুদণ্ড ভেঙে দেন তিনি। তার এই স্পেলটি গুজরাটকে ম্যাচ থেকে পুরোপুরি ছিটকে দেয়।
গুজরাটের আত্মসমর্পণ ও আরসিবির দাপট
২৫৫ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে গুজরাট টাইটানস শুরু থেকেই চাপে ছিল। পাওয়ারপ্লে-র মধ্যেই ৫১ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে তারা খাদের কিনারে পৌঁছে যায়। জ্যাকব ডাফি তিনটি উইকেট পান, ভুবনেশ্বর কুমার শুভমান গিল ও রাহুল তেওয়াটিয়াকে আউট করে ফাইনালের আশা শেষ করে দেন। এছাড়াও জশ হ্যাজলউড ও ক্রুনাল পান্ডিয়ার নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ১৯.৩ ওভারে ১৬২ রানে গুটিয়ে যায় গুজরাটের ইনিংস।
উপসংহার
এই জয় আরসিবি ভক্তদের জন্য যেমন আনন্দের, তেমনই এটি প্রমাণ করে যে দল হিসেবে তারা কতটা ভারসাম্যপূর্ণ। ব্যাটিংয়ে রজত পাটিদারের বীরত্ব এবং বোলিংয়ে রাসিখ, ডাফি ও ভুবনেশ্বরদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা আরসিবিকে ট্রফির আরও কাছে নিয়ে গেছে। টুর্নামেন্টের এই পর্যায়ে এসে গুজরাট টাইটানসের মতো শক্তিশালী দলকে এইভাবে হারানো বেঙ্গালুরু শিবিরের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এখন ক্রিকেট বিশ্বের নজর ফাইনাল ম্যাচের দিকে, যেখানে আরসিবি তাদের সেরা ফর্ম বজায় রাখতে মরিয়া থাকবে।