আইপিএল ২০২৬: সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের প্রশংসা রজত পাটিদারের
হায়দ্রাবাদের রাজকীয় জয় এবং রজত পাটিদারের বিশ্লেষণ
রাজীব গান্ধী আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে আইপিএল ২০২৬-এর ৬৭তম ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ এবং রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। এই ম্যাচে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আরসিবিকে ৫৫ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে মধুর প্রতিশোধ নিয়েছে অরেঞ্জ আর্মি। যদিও এই হারের পরেও নেট রান রেটের কল্যাণে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে রয়েছে বেঙ্গালুরু এবং তারা কোয়ালিফায়ার ১-এর জন্য নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করেছে।
ম্যাচের প্রেক্ষাপট এবং টসের প্রভাব
টস জিতে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয়। হায়দ্রাবাদ তাদের জয়ী একাদশ অপরিবর্তিত রাখে, অন্যদিকে আরসিবি দলে একটি পরিবর্তন আসে। চোটের কারণে বাইরে থাকা জ্যাকব বেথেলের পরিবর্তে দলে ফেরেন অধিনায়ক রজত পাটিদার। শীর্ষ দুই দলের লড়াই হিসেবে এই ম্যাচটি ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
হায়দ্রাবাদের বিধ্বংসী ব্যাটিং লাইনআপ
প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ট্রাভিস হেড এবং অভিষেক শর্মা ঝোড়ো শুরু করেন। প্রথম উইকেটে তারা যোগ করেন ৪৫ রান, যেখানে হেড ২৬ রান করেন। এরপরেই ইনিংসের হাল ধরেন অভিষেক শর্মা এবং ইশান কিষাণ। অভিষেক ৫৬ রানের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন। তবে ম্যাচের আসল মোড় ঘোরে ইশান কিষাণ এবং হেনরিখ ক্লাসেনের ১১৩ রানের বিধ্বংসী পার্টনারশিপে। তারা প্রতি ওভারে ১৪ রানের বেশি গতিতে রান তুলে আরসিবি বোলারদের দিশেহারা করে দেন। ক্লাসেন মাত্র ২৩ বলে হাফ-সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন।
আরসিবির পাল্টা লড়াই এবং লক্ষ্যপূরণ
২৫৬ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে আরসিবি শুরুটা দারুণ করেছিল। ভেঙ্কটেশ আইয়ার ১৯ বলে ৪৪ রানের একটি মারকাটারি ইনিংস উপহার দেন। কোহলির সাথে তার ৬০ রানের জুটি বেঙ্গালুরুকে জয়ের স্বপ্ন দেখাচ্ছিল। কিন্তু ইশান মালিঙ্গার বলে আইয়ার আউট হওয়ার পর থেকেই ছন্দপতন ঘটে। বিরাট কোহলি মাত্র ১৫ রানে সাজঘরে ফেরেন। এরপর দেবদূত পাডিক্কাল ২১ রান করলেও রানের গতি কমে যায়। শেষদিকে রজত পাটিদার ৫৬ এবং ক্রুনাল পান্ডিয়া অপরাজিত ৪১ রান করলেও জয়ের জন্য তা যথেষ্ট ছিল না।
রজত পাটিদারের প্রতিক্রিয়া
ম্যাচ শেষে আরসিবি অধিনায়ক রজত পাটিদার প্রতিপক্ষের ব্যাটিংয়ের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ‘তাদের প্রথম পাঁচজন ব্যাটসম্যান অসাধারণ খেলেছে এবং পুরো প্রথম ইনিংস তারা আধিপত্য বিস্তার করেছে। ২৫৫ রান এই পিচে অনেক বড় স্কোর।’
পাটিদার আরও যোগ করেন যে, হায়দ্রাবাদের বোলাররা তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী স্লো বাউন্সার এবং ইয়র্কার নিখুঁতভাবে কাজে লাগিয়েছে। তিনি বলেন, ‘পিচটি ব্যাটিংয়ের জন্য ভালো হলেও, যখন বোলাররা স্লো বাউন্সার এবং উইকেটের ওপর ধীরগতির বল করে, তখন রান তোলা সত্যিই কঠিন হয়ে পড়ে। হায়দ্রাবাদের বোলাররা তাদের শক্তির জায়গাগুলো খুব ভালোভাবেই প্রয়োগ করেছে।’
উপসংহার
যদিও এই হারটি আরসিবির জয়ের ধারায় ছেদ টেনেছে, তবুও দলের মনোবল অটুট রয়েছে। কোয়ালিফায়ার ১-এর প্রস্তুতি হিসেবে এই ম্যাচটি আরসিবিকে তাদের বোলিং এবং ডেথ ওভারে আরও সতর্ক হওয়ার বার্তা দিয়ে গেল। অন্যদিকে, সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ তাদের ছন্দ ধরে রেখে টুর্নামেন্টের শেষ পর্যায়ে এসে দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছে। পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থান ধরে রেখে পরবর্তী লড়াইয়ের জন্য এখন প্রস্তুত আরসিবি।