“Miles Ahead”: Ex-BCCI Selector claims Krunal Pandya offers more than Axar Patel – টি-টোয়েন্টি দলে অক্ষর প্যাটেলের চেয়ে ক্রুনাল পান্ডিয়া এগিয়ে: দাবি কৃষ্ণমাচারি শ্রীকান্তের
ভারতের টি-টোয়েন্টি স্কোয়াডে কি ফিরছেন ক্রুনাল পান্ডিয়া?
আইপিএল ২০২৬-এর প্রথম কোয়ালিফায়ারে গুজরাট টাইটান্সের বিরুদ্ধে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর (আরসিবি) দাপুটে জয়ের পর ক্রিকেট মহলে নতুন আলোচনার জন্ম হয়েছে। আরসিবির অলরাউন্ডার ক্রুনাল পান্ডিয়াকে ফের ভারতীয় টি-টোয়েন্টি দলে দেখার জোরালো দাবি তুলেছেন প্রাক্তন প্রধান নির্বাচক কৃষ্ণমাচারি শ্রীকান্ত। ২০২১ সালের পর থেকে ক্রুনাল আর জাতীয় দলের জার্সিতে মাঠে নামেননি, তবে বর্তমান ফর্ম তাকে আবার পাদপ্রদীপের আলোয় নিয়ে এসেছে।
আরসিবির জয়ের নায়ক ক্রুনাল
গুজরাট টাইটান্সের বিরুদ্ধে ৯২ রানের বড় ব্যবধানে জয়ের ম্যাচে বল ও ব্যাট হাতে অসাধারণ অবদান রেখেছেন ক্রুনাল। তিনি ৪৩ রান করার পাশাপাশি ২ উইকেট নিয়ে ম্যাচটি একপেশে করে দেন। আরসিবির স্কোরবোর্ডে ২৫৪ রানের পাহাড় গড়ার পেছনে রজত পাতিদারের ৯৩ রানের ঝোড়ো ইনিংসের পাশাপাশি ক্রুনালের দায়িত্বশীল ব্যাটিং বড় ভূমিকা পালন করেছিল। গুজরাট টাইটান্সের বোলাররা কোহলি, পাডিক্কল এবং ক্রুনালের আক্রমণের সামনে দিশেহারা হয়ে পড়েন।
অক্ষর প্যাটেলের চেয়ে কেন এগিয়ে ক্রুনাল?
শ্রীকান্ত তার ইউটিউব চ্যানেলে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে অক্ষর প্যাটেলের তুলনায় ক্রুনাল পান্ডিয়া অনেক বেশি কার্যকরী। তিনি বলেন, ‘ক্রুনাল পান্ডিয়া বর্তমানে আরসিবির আসল চালিকাশক্তি। তার অলরাউন্ড ক্ষমতা যেকোনো দলকে ভারসাম্য দেয়। গত দুটি আইপিএল সিজন বিবেচনা করলে সে অক্ষর প্যাটেলের চেয়ে মাইলখানেক এগিয়ে রয়েছে। তাকে আর উপেক্ষা করা উচিত নয়।’ শ্রীকান্তের মতে, ক্রুনাল, ভুবনেশ্বর কুমার এবং রজত পাতিদারের মতো ক্রিকেটারদের আসন্ন আন্তর্জাতিক সিরিজের জন্য বিবেচনা করা উচিত।
পরিসংখ্যান কী বলছে?
চলতি আইপিএল মৌসুমে ক্রুনাল পান্ডিয়া নিজেকে প্রমাণ করেছেন একজন কার্যকর ‘ফ্লোটার’ হিসেবে। ১৫টি ম্যাচে তিনি ৪৫ গড়ে ২২৫ রান করেছেন, যেখানে তার স্ট্রাইক রেট ১৪৭। শুধু ব্যাটিং নয়, বল হাতেও তিনি নিয়মিত ব্রেকথ্রু এনে দিচ্ছেন। ১৩টি উইকেট শিকার করেছেন ৮.৬৪ ইকোনমি রেটে, যা টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের জন্য বেশ প্রশংসনীয়।
আরসিবির ধ্বংসাত্মক ব্যাটিং ফর্ম
শ্রীকান্ত আরও প্রশংসা করেছেন আরসিবির সামগ্রিক ব্যাটিং অ্যাপ্রোচের। তিনি বলেন, ‘কোহলি ও পাডিক্কলের জুটি আবার জ্বলে উঠেছে। এরপর ক্রুনাল এবং পাতিদারের ব্যাটিংয়ের সামনে গুজরাটের বোলাররা অসহায় ছিলেন। আরসিবি এখন এমনভাবে খেলছে যে বিপক্ষ দলের অধিনায়ক বুঝতেও পারছেন না পরিস্থিতি সামলাতে কী করবেন।’
উপসংহার
গুজরাট টাইটান্সের রান তাড়া করার প্রক্রিয়াটি ছিল একেবারেই দিশাহীন। সাই সুদর্শন হিট-উইকেট হওয়ার পর থেকেই তাদের পতন ত্বরান্বিত হয়। রাহুল তেওয়াটিয়া ৬৪ রান করে হারের ব্যবধান কমালেও জয়ের কোনো সম্ভাবনা তৈরি করতে পারেননি। অন্যদিকে, আরসিবির হয়ে জ্যাকব ডাফি ৩টি এবং ভুবনেশ্বর কুমার, ক্রুনাল ও রাসিখ সালাম ২টি করে উইকেট নিয়ে জয় নিশ্চিত করেন। এখন দেখার বিষয়, নির্বাচকরা শ্রীকান্তের এই পরামর্শকে গুরুত্ব দিয়ে ক্রুনাল পান্ডিয়াকে পুনরায় জাতীয় দলে ডাকেন কি না। বর্তমান ফর্ম বিচারে একজন অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার হিসেবে তিনি ভারতীয় দলের জন্য অবশ্যই একটি বড় সম্পদ হতে পারেন।