Krunal Pandya playfully taunts Dinesh Karthik after RCB coach forgets his role i – আইপিএল ২০২৬ কোয়ালিফায়ার ১: কুনাল পান্ডিয়ার কৌতুকপূর্ণ খোঁটা, আরসিবি কোচ কার্তিক ভুলেছিলেন তার অবদান!
আইপিএল ২০২৬-এর কোয়ালিফায়ার ১-এ রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (RCB) এক অসাধারণ পারফরম্যান্সের মাধ্যমে ফাইনালে নিজেদের জায়গা পাকা করে নিয়েছে। এই ম্যাচে গুজরাট টাইটান্সকে উড়িয়ে দিয়ে তারা কেবল আইপিএলের প্লে-অফ ইতিহাসে এক বিশাল রেকর্ডই ভাঙেনি, বরং টানা দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপার লড়াইয়ে নামার সুযোগ পেয়েছে। গত বছর ২০২৩ সালে তাদের প্রথম শিরোপা জেতার পর, ২০২৬ সালেও তারা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন দেখছে।
আরসিবি’র রেকর্ড ভাঙা পারফরম্যান্স ও ফাইনালে প্রবেশ
রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু কোয়ালিফায়ার ১-এ প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ২৫৪ রানের বিশাল স্কোর গড়ে, যা আইপিএল প্লে-অফ ইতিহাসের সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। এরপর তারা গুজরাট টাইটান্সকে মাত্র ১৬২ রানে অলআউট করে দিয়ে এক আরামদায়ক জয় নিশ্চিত করে। এই ক্লিনিক্যাল পারফরম্যান্স দলের পেশাদারিত্বের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এই জয়ের পর, গুজরাট টাইটান্সকে এখন এলিমিনেটরের বিজয়ীর সাথে কোয়ালিফায়ার ২ খেলতে হবে। সেই ম্যাচের বিজয়ী দল আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে ফাইনালে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর মুখোমুখি হবে।
কার্তিকের প্রশংসা ও দলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা
ম্যাচ শেষে ড্রেসিংরুমে আরসিবি’র মেন্টর এবং ব্যাটিং কোচ দিনেশ কার্তিক খেলোয়াড়দের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হন। তিনি দলের ব্যাটারদের দুর্দান্ত সূচনা এবং পুরো ইনিংসে রানের গতি বজায় রাখার জন্য সাধুবাদ জানান। কার্তিক বলেন, “শুরু থেকেই ছেলেদের মধ্যে যে আক্রমণাত্মক মনোভাব ছিল, তা অসাধারণ। ভেঙ্কি (ভেঙ্কটেশ আইয়ার), বিরাট (কোহলি) এবং দেব (দেবদত্ত পাডিক্কাল) এর মাধ্যমে এর সূচনা হয়েছিল। একটি দল হিসেবে আমরা পুরো ইনিংসে রানের গতি বজায় রেখেছি। বড় ম্যাচগুলোতে কখনও কখনও দল চাপের মুখে পিছিয়ে যায়। কিন্তু আমরা নিশ্চিত করেছি যে আমরা সামনে এগিয়ে যাব।”
রজত পাটিদারের অধিনায়কোচিত ইনিংস
কার্তিক বিশেষভাবে তরুণ অধিনায়ক রজত পাটিদারের ৯৩ রানের বিস্ফোরক ইনিংসের প্রশংসা করেন। মাত্র ৩৩ বলে এই দুর্দান্ত ইনিংসটি চাপের মুখে রজতকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে সাহায্য করে এবং দলকে দ্বিতীয় ফাইনালের পথে নিয়ে যায়। কার্তিক বলেন, “রজতের ইনিংসটি ছিল অবিশ্বাস্য। চাপের ম্যাচে সে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছে এবং বোলারদের সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত করেছে।”
কুনাল পান্ডিয়ার অলরাউন্ড অবদান এবং মজার মুহূর্ত
এই বিশাল জয়ে শুধু রজত পাটিদার বা বিরাট কোহলির মতো তারকারাই নন, রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর শিরোপা জয়ের দৌড়ে কুনাল পান্ডিয়ার অবদানও ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কুনাল ব্যাট হাতে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন এবং বল হাতে দুটি উইকেটও তুলে নেন। ড্রেসিংরুমে যখন দেবদত্ত পাডিক্কাল দলের আইপিএলে মনোযোগী থাকার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কথা বলছিলেন এবং তার বক্তব্য প্রায় শেষ করতে যাচ্ছিলেন, ঠিক তখনই কুনাল পান্ডিয়া মজার ছলে তাকে থামিয়ে দেন। কুনাল বলেন, “মেরা নাম ভুল গায়া ভাই (আমার নাম ভুলে গেছ ভাই)।” এই কথা শুনে দিনেশ কার্তিক দ্রুত সাড়া দেন, “কুনাল, ভালো কাজ করেছ,” এবং তার বক্তৃতায় আরও কিছু কথা যোগ করেন। কার্তিক আবারও বলেন, “দারুণ খেলেছ কুনাল। ব্যাট হাতে ভালো চেষ্টা ছিল।” এই কথোপকথন পুরো ড্রেসিংরুমকে হাসিতে ভরিয়ে তোলে, যেখানে প্রবীণ তারকা বিরাট কোহলিও হাসিতে ফেটে পড়েন। এই ঘটনাটি দলের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ এবং কৌতুকের এক দারুণ নিদর্শন ছিল।
𝗥𝗖𝗕 𝘃 𝗚𝗧: 𝗗𝗿𝗲𝘀𝘀𝗶𝗻𝗴 𝗥𝗼𝗼𝗺 𝗩𝗶𝗯𝗲𝘀 𝗮𝗳𝘁𝗲𝗿 𝗮 𝗱𝗼𝗺𝗶𝗻𝗮𝘁𝗶𝗻𝗴 𝘄𝗶𝗻
Rajat’s brilliance, Bhuvi’s consistency, the team recognising every little contribution, and staying focused with eyes on the bigger prize – here we are bringing you all the behind… pic.twitter.com/6YvdJqddn8
বিরাট কোহলির আক্রমণাত্মক দেহভঙ্গিমা এবং দলের ইতিবাচকতা
দিনেশ কার্তিক দলের মধ্যে বিরাট কোহলির আক্রমণাত্মক দেহভঙ্গিমার জন্য তাকে ধন্যবাদ জানান। তিনি দলের ইতিবাচকতা এবং পাওয়ার প্লের মধ্যেই খেলাকে অনেকটাই নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনার প্রশংসা করেন। কার্তিক বলেন, “ম্যাচের আগে বিরাট আমাদের দেহভঙ্গিমা শক্তিশালী রাখার কথা বলেছিল, এবং আমি মনে করি গত কয়েক সপ্তাহে এটি যতটা ভালো ছিল, আজও তাই ছিল। আমাদের তাদের আউট করার মনোভাব ছিল, এবং সত্যি বলতে, আমরা পাওয়ার প্লের মধ্যেই প্রায় খেলাটি নিজেদের দখলে নিয়ে এসেছিলাম।” এই আত্মবিশ্বাস এবং ইতিবাচক মনোভাবই আরসিবি’র সাফল্যের মূল চাবিকাঠি ছিল।
ফাইনালে শিরোপা জয়ের বিশ্বাস
দিনেশ কার্তিক আরসিবি’র ফাইনালেও এই ফর্ম ধরে রেখে টানা দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা জেতার ক্ষমতার উপর গভীর বিশ্বাস দেখিয়েছেন। ২০২৩ সালে প্রথম শিরোপা জেতার পর ২০২৬ সালেও তারা সেই একই ধারা বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর। কার্তিক যোগ করেন, “চার দিন পর আমাদের একটি বড় ম্যাচ আছে, এবং আমি নিশ্চিত আপনারা সবাই এর জন্য প্রস্তুত থাকবেন। তবে আসুন, আগামী কয়েক দিন আমরা অনেক মজা করি। আর যখন আমরা আহমেদাবাদে পৌঁছাব, তখন আমরা মনোযোগ দেব। কিন্তু আপাতত, খুব ভালো করেছ ছেলেরা। এটি একটি ক্লিনিক্যাল প্রচেষ্টা, পেশাদারী। এবং আমি মনে করি প্লে-অফের ১ বনাম ২ সবসময়ই একটি বড় খেলা। কিন্তু আমরা চ্যাম্পিয়নদের মতো খেলেছি। এবং আমি মনে করি আমরা এটি সম্ভব করতে পারি। ৩১শে মে, সেই দিনের জন্য অপেক্ষা করছি। এবং একই ব্র্যান্ডের ক্রিকেট খেলব।”
রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর এই যাত্রা truly অনুপ্রেরণামূলক। টিম স্পিরিট, ব্যক্তিগত দক্ষতা এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টার এক অসাধারণ মিশ্রণ তাদের আবারও ফাইনালে পৌঁছে দিয়েছে। এখন দেখার পালা, আহমেদাবাদের মহারণে তারা কি তাদের দ্বিতীয় শিরোপা ঘরে তুলতে পারে কিনা। এই দলটি কেবল ভালো ক্রিকেটই খেলছে না, বরং তাদের মধ্যে যে প্রাণবন্ততা এবং রসিকতা রয়েছে, কুনাল পান্ডিয়ার এই মজার ঘটনাটি তারই এক প্রতিফলন। ড্রেসিংরুমের এই ইতিবাচক পরিবেশই মাঠে তাদের পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন অনেকে।