Matheesha Pathirana’s Cost Per Ball For KKR In IPL 2026 – আইপিএল ২০২৬-এ কেকেআর-এর মাথিশা পাথিরানার প্রতিটি বলের অবিশ্বাস্য খরচ
ভূমিকা: কেকেআর-এর চোট জর্জরিত মৌসুম এবং পাথিরানার অপেক্ষা
কলকাতা নাইট রাইডার্সের (KKR) জন্য আইপিএল ২০২৬ মৌসুমটি ছিল নানা উত্থান-পতন এবং চোটের আঘাতে জর্জরিত। লিগ পর্বের শেষ দিনে ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের বিপক্ষে রাজস্থান রয়্যালসের জয়ের পর আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয় কেকেআর-এর এই মৌসুমের যাত্রা। মৌসুমের শুরুটা কলকাতার জন্য একেবারেই ভালো ছিল না। প্রথম ৬টি ম্যাচের একটিতেও জয়ের মুখ দেখেনি তারা, ঝুলিতে ছিল কেবল পাঞ্জাব কিংসের বিরুদ্ধে পরিত্যক্ত ম্যাচ থেকে পাওয়া মাত্র ১টি পয়েন্ট। তবে সেখান থেকেও দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় নাইটরা। শেষ দিন পর্যন্ত তারা শেষ চারে ওঠার লড়াইয়ে টিকে ছিল। কিন্তু এই পুরো লড়াইয়ের মাঝে ফ্র্যাঞ্চাইজিটির জন্য সবচেয়ে বড় হতাশার জায়গা ছিল শ্রীলঙ্কান পেসার মাথিশা পাথিরানার চোট এবং তাকে ঘিরে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকেই চোটের সমস্যায় ভুগছিলেন পাথিরানা। কিন্তু কেকেআর ম্যানেজমেন্ট আশাবাদী ছিল যে মৌসুমের মাঝপথেই এই ডানহাতি ফাস্ট বোলার সুস্থ হয়ে মাঠে ফিরবেন। এই অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসের কারণে তারা পাথিরানার কোনো বিকল্প খেলোয়াড়ের নামও ঘোষণা করেনি। নিলামে বিপুল অর্থ খরচ করে দলে নেওয়া এই স্লিংগি অ্যাকশনের পেসার ছিলেন কেকেআর-এর বোলিং পরিকল্পনার মূল চালিকাশক্তি। বিশেষ করে যখন হর্ষিত রানা চোটের কারণে ছিটকে যান এবং মুস্তাফিজুর রহমানকে নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়, তখন পাথিরানার গুরুত্ব আরও dependences বহুগুণ বেড়ে গিয়েছিল। কিন্তু কেকেআর ভক্ত ও টিম ম্যানেজমেন্টের সেই দীর্ঘ অপেক্ষা শেষ পর্যন্ত চরম হতাশায় রূপ নেয়। পুরো মৌসুমে তিনি কেবল একটি ম্যাচেই মাঠে নামতে পেরেছিলেন এবং সেখানেও মাত্র কয়েক বল করার পরই আবার চোটের কবলে পড়েন। কেকেআর যখন আগামী মৌসুমের পরিকল্পনা শুরু করছে, তখন চলুন দেখে নেওয়া যাক আইপিএল ২০২৬-এ পাথিরানার পেছনে প্রতি বলের খরচ কত ছিল।
২০ লাখ থেকে ১৮ কোটি: পাথিরানার বাজারমূল্যের মহাবিস্ফোরণ
মাত্র ২৩ বছর বয়সেই চেন্নাই সুপার কিংস (CSK) এবং শ্রীলঙ্কা জাতীয় দলের হয়ে নিজের বোলিং দক্ষতা প্রমাণ করেছেন মাথিশা পাথিরানা। বর্তমানে তাকে বিশ্বের অন্যতম সেরা টি-টোয়েন্টি বোলার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আইপিএল ২০২৫-এর মেগা নিলামের আগে চেন্নাই তাকে ধরে রেখেছিল। কিন্তু সেবার পয়েন্ট টেবিলের ১০ম স্থানে শেষ করার পর, স্কোয়াড পুনর্গঠনের লক্ষ্যে এবং বাজেট বাড়াতে আইপিএল ২০২৬-এর আগে সিএসকে তাকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। ২০২৪ সালে চেন্নাইয়ের সাথে পাথিরানার চুক্তি ছিল মাত্র ২০ লাখ টাকার। সেখান থেকে ২০২৫ সালে তার চুক্তি বেড়ে দাঁড়ায় ১৩ কোটি টাকায়, যা ছিল প্রায় ৬৪০০ শতাংশের এক অবিশ্বাস্য বৃদ্ধি।
আইপিএল ২০২৬-এর নিলামে কেকেআর তাকে তাদের বোলিং আক্রমণের মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করে এবং তাকে দলে ভেড়াতে ১৮ কোটি টাকার বিশাল অঙ্কের বিড করে। তাদের প্রত্যাশা ছিল এই লঙ্কান পেসার ডেথ ওভারে দলের ত্রাতা হয়ে উঠবেন। এই ১৮ কোটি টাকার মূল চুক্তির পাশাপাশি, মৌসুমের একমাত্র ম্যাচে মাঠে নামার জন্য তিনি প্রায় ৭.৫ লাখ টাকা ম্যাচ ফি লাভ করেন। ফলে কর ব্যতিরেকে তার মোট অর্জিত অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ১৮,০৭,৫০,০০০ টাকা (১৮.০৭৫ কোটি টাকা)।
আইপিএল ২০২৬-এ পাথিরানার পারফরম্যান্স এবং সেই দুর্ভাগ্যজনক ওভার
দীর্ঘ অপেক্ষার পর মে মাসের শুরুতে কেকেআর শিবিরে যোগ দেন পাথিরানা। ফ্র্যাঞ্চাইজিটি তার চোট নিয়ে অত্যন্ত সতর্ক ছিল এবং টুর্নামেন্টের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে তাকে মাঠে নামানোর সিদ্ধান্ত নেয়। মৌসুমের প্রথম ১১টি ম্যাচ মিস করার পর অবশেষে ১৬ মে গুজরাট টাইটান্সের বিপক্ষে কেকেআর-এর হয়ে অভিষেক ঘটে পাথিরানার। গত ১৬ ফেব্রুয়ারির পর এটিই ছিল প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে তার প্রথম ম্যাচ।
দীর্ঘদিন মাঠের বাইরে থাকার পরও নিজের প্রথম ওভারে দারুণ ঝলক দেখান তিনি। পাওয়ারপ্লেতে করা নিজের প্রথম ওভারে মাত্র ৭ রান খরচ করেন, যার মধ্যে ছিল ৪টি ডট বল, ২টি ওয়াইড এবং একটি চার। কেকেআর সমর্থকরা যখন তার এই বোলিং দেখে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছিলেন, তখনই ঘটে বিপর্যয়। টুর্নামেন্টে টিকে থাকার বাঁচা-মরার লড়াইয়ে নিজের দ্বিতীয় ওভারটি করতে আসেন পাথিরানা। শুভমান গিলকে করা ওভারের প্রথম বলটি ছিল ১৪৫.৫ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা গতির এক দুর্দান্ত ডেলিভারি। কিন্তু ঠিক তার পরের বলটি করতে গিয়ে রান-আপের মাঝপথেই থেমে যান তিনি এবং মাঠের ফিজিওকে ডাকেন। প্রাথমিক চিকিৎসার পর তিনি আরও একটি বল করার চেষ্টা করলেও হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটের আশঙ্কায় আর ঝুঁকি না নিয়ে মাঠ ছেড়ে চলে যান। শেষ পর্যন্ত ১.২ ওভারে কোনো উইকেট না পেয়ে ৯ রান দিয়ে তার মৌসুমের সমাপ্তি ঘটে।
গাণিতিক হিসাব: কেকেআর-এর হয়ে প্রতিটি বলের অবিশ্বাস্য খরচ
১৮ কোটি টাকারও বেশি খরচ করে পাথিরানাকে দলে নিলেও কেকেআর তার কাছ থেকে প্রায় কিছুই পায়নি। পারফরম্যান্সের ঘাটতি নয়, বরং চোটের ভাগ্যই এখানে খলনায়ক হিসেবে কাজ করেছে। পাথিরানা এই মৌসুমে কেকেআর-এর কাছ থেকে মোট ১৮.০৭৫ কোটি টাকা পেয়েছেন। আর পুরো মৌসুমে তিনি বল করতে পেরেছেন মাত্র ১.২ ওভার, অর্থাৎ মাত্র ৮টি বৈধ বল।
এখন যদি আমরা এই মোট অঙ্ককে তার করা বলের সংখ্যা দিয়ে ভাগ করি, তবে হিসাবটি দাঁড়ায় অত্যন্ত চমকপ্রদ। এই লঙ্কান পেসারের পেছনে কেকেআর-এর প্রতি বলের পেছনে খরচ হয়েছে প্রায় ২,২৫,৯৩,৭৫০ টাকা (প্রায় ২.২৫৯ কোটি টাকা)। আইপিএলের ইতিহাসে এটি অন্যতম ব্যয়বহুল চোটের ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।
ভবিষ্যৎ ভাবনা: কেকেআর কি ধরে রাখবে পাথিরানাকে?
পাথিরানার এই বিশাল চুক্তি এবং তার সাথে থাকা চোটের উচ্চ ঝুঁকির কথা বিবেচনা করলে, কেকেআর-এর জন্য তাকে আগামী মৌসুমের আগে দলে রাখা বেশ কঠিন হবে। স্কোয়াডের ফাঁকফোকরগুলো পূরণ করার জন্য এবং বাজেট খালি করতে কেকেআর হয়তো তাকে আগামী নিলামের আগে ছেড়ে দিতে পারে। তবে কেকেআর-এর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনেকটাই নির্ভর করবে আগামী ৫-৬ মাসে পাথিরানার শারীরিক ফিটনেস এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার পারফরম্যান্সের ওপর। সুস্থ ও ফিট পাথিরানা যেকোনো দলের জন্যই সম্পদ, কিন্তু চোটপ্রবণ পাথিরানার পেছনে এত বড় অঙ্কের ঝুঁকি নেওয়া কেকেআর-এর জন্য পুনরায় আত্মঘাতী হতে পারে।