এমএস ধোনিই সিএসকে-র পরবর্তী প্রধান কোচ? রবিচন্দ্রন অশ্বিনের বড় মন্তব্য
চেন্নাই সুপার কিংসের ব্যর্থতা এবং ধোনিকে নিয়ে নতুন জল্পনা
আইপিএল ২০২৬ মরশুমটি চেন্নাই সুপার কিংসের (সিএসকে) জন্য মোটেও সুখকর ছিল না। আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে গুজরাট টাইটান্সের কাছে বড় ব্যবধানে হেরে প্লে-অফের দৌড় থেকে ছিটকে গেছে পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নরা। ১৪টি ম্যাচের মধ্যে মাত্র ৬টি জয় এবং ৮টি পরাজয় নিয়ে রুতুরাজ গায়কোয়াড়ের দল পয়েন্ট টেবিলের সপ্তম স্থানে শেষ করেছে। এই নিয়ে টানা তিন মরশুম প্লে-অফে উঠতে ব্যর্থ হলো চেন্নাই। কাকতালীয়ভাবে, মহেন্দ্র সিং ধোনি অধিনায়কত্ব ছাড়ার পর থেকেই সিএসকে-র এই অধঃপতন শুরু হয়েছে। ধোনি যখন মাঠের বাইরে, তখন দলের এই কঠিন পরিস্থিতিতে ভারতের তারকা অফ-স্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিন এক যুগান্তকারী পরামর্শ দিয়েছেন। অশ্বিনের মতে, স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের পর সিএসকে-র পরবর্তী প্রধান কোচ হিসেবে ধোনির চেয়ে উপযুক্ত ব্যক্তি আর কেউ হতে পারেন না।
সোশ্যাল মিডিয়ায় অশ্বিনের রসিকতা ও বড় বার্তা
সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘X’-এ (সাবেক টুইটার) এক সিএসকে সমর্থক মজার ছলে লিখেছিলেন যে, রবিচন্দ্রন অশ্বিনকে যেন কোনোভাবেই স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের উত্তরসূরি হিসেবে প্রধান কোচ না করা হয়। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, অশ্বিন হয়তো তার ইউটিউব চ্যানেলেই ম্যাচের অনেক আগে দলের একাদশ ফাঁস করে দেবেন! এই মজাদার টুইটের জবাবে অশ্বিনও নিজের চেনা ভঙ্গিতে রসিকতা করতে ছাড়েননি।
অশ্বিন উত্তর দিয়ে লেখেন, “আপনার সাথে আমি সম্পূর্ণ একমত! আমি শুধু একাদশই ঘোষণা করব না, সেই সাথে প্রতিপক্ষ যাতে আমাদের ব্যাটিং ও বোলিংয়ের সমস্ত পরিকল্পনা আগে থেকেই জেনে যায়, তাও নিশ্চিত করব। আসলে, এগুলো করলে দুর্নীতি দমন শাখা (ACU) আমাকে ছাড়বে না এবং আমার নিজের ব্যর্থতাও নিশ্চিত হবে।”
তবে এই হাসিমজার আড়ালে অশ্বিন সিএসকে-র ভবিষ্যৎ নিয়ে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সিরিয়াস মন্তব্য করেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, যদি স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের পর চেন্নাইকে নতুন কোনো প্রধান কোচ খুঁজতে হয়, তবে মহেন্দ্র সিং ধোনি ছাড়া অন্য কারো দিকে তাকানোর কোনো প্রয়োজনই নেই। অশ্বিন লিখেছেন, “যখন এমএসডি নিজেই সেখানে আছেন, তখন আপনারা অন্য কাউকে কেন খুঁজছেন?”
মাঠে না খেলেই কাটল ধোনির আইপিএল ২০২৬
আইপিএল ২০২৬ মরশুমটি মহেন্দ্র সিং ধোনির ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারের জন্য ছিল অত্যন্ত হতাশার। পুরো টুর্নামেন্টে তিনি একটি ম্যাচও খেলতে পারেননি। টুর্নামেন্ট শুরু হওয়ার ঠিক আগে পেশীর চোটের (calf strain) কারণে তিনি প্রথম দুই সপ্তাহের জন্য দল থেকে ছিটকে যান। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, পুরো মরশুম জুড়ে তিনি এই চোট থেকে পুরোপুরি সেরে উঠতে পারেননি। বেশিরভাগ সময়ই তিনি চেন্নাইতে পুনর্বাসনে কাটিয়েছেন এবং মাঝে মাঝে দলের অনুশীলনে যোগ দিয়েছেন।
ধোনির ১৯ বছরের দীর্ঘ আইপিএল ক্যারিয়ারে এই প্রথম এমন ঘটল, যেখানে তিনি একটি ম্যাচও না খেলে পুরো মরশুম ডাগআউটে কাটালেন। চেন্নাইয়ের চিপক স্টেডিয়ামে সিএসকে-র শেষ হোম ম্যাচের পর ধোনিকে যেভাবে বিদায় জানানো হয়েছিল, তা থেকে ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে ৪৪ বছর বয়সী এই কিংবদন্তিকে হয়তো ২০২৭ সালের আইপিএলে আর খেলোয়াড় হিসেবে দেখা যাবে না। আর ঠিক এই কারণেই অশ্বিনের এই মন্তব্য অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। খেলোয়াড় ধোনির বিদায়ের পর কোচ ধোনির আগমনই হতে পারে সিএসকে-র ঘুরে দাঁড়ানোর একমাত্র চাবিকাঠি।
আইপিএল ২০২৬-এ সিএসকে-র পারফরম্যান্সের ময়নাতদন্ত
রুতুরাজ গায়কোয়াড়ের নেতৃত্বে সিএসকে-র মরশুমের শুরুটা হয়েছিল অত্যন্ত বাজেভাবে। প্রথম তিনটি ম্যাচেই টানা হেরে ব্যাকফুটে চলে গিয়েছিল তারা। তবে এরপর দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়ায় হলুদ ব্রিগেড। পরের ৮টি ম্যাচের মধ্যে ৬টিতে জয় ছিনিয়ে নিয়ে তারা প্লে-অফের লড়াইয়ে শক্ত অবস্থানে চলে আসে। কিন্তু শেষ মুহূর্তের চাপ সামলাতে ব্যর্থ হয় দল।
লিগ পর্বের শেষ তিনটি ম্যাচে পরপর হেরে প্লে-অফের স্বপ্ন ভেস্তে যায় সিএসকে-র। বিশেষ করে গুজরাট টাইটান্সের বিরুদ্ধে ৮৯ রানের বিশাল ব্যবধানে পরাজয়টি ছিল তাদের জন্য সবচেয়ে বড় ধাক্কা। এই হারের ফলে তাদের নেট রান রেট (NRR) কমে দাঁড়ায় -০.৩৪৫-এ, যা তাদের টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাওয়ার পথ সুগম করে।
কেন ধোনিই হতে পারেন সেরা প্রধান কোচ?
মহেন্দ্র সিং ধোনিকে বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম সেরা ক্রিকেটীয় মস্তিষ্কের অধিকারী বলে গণ্য করা হয়। স্টিফেন ফ্লেমিং এবং এমএস ধোনির যুগলবন্দী সিএসকে-কে আইপিএলের অন্যতম সফল ফ্র্যাঞ্চাইজিতে পরিণত করেছে। ফ্লেমিং যদি কোনোদিন এই দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান, তবে ধোনির চেয়ে ভালো আর কেউ এই দলের সংস্কৃতি ও খেলোয়াড়দের মানসিকতা বুঝতে পারবেন না।
- তরুণদের মেন্টরশিপ: রুতুরাজ গায়কোয়াড়, মাথিশা পাথিরানা বা তুষার দেশপান্ডের মতো তরুণ খেলোয়াড়দের গড়ে তুলতে ধোনির ভূমিকা অনস্বীকার্য। কোচ হিসেবে তিনি তরুণদের আরও কাছ থেকে গাইড করতে পারবেন।
- চাপ সামলানোর ক্ষমতা: ধোনির শান্ত ও ঠাণ্ডা মাথার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা সিএসকে-র ড্রেসিংরুমের পরিবেশকে সবসময় শান্ত রাখে, যা কঠিন সময়ে দলের জন্য অত্যন্ত জরুরি।
- সিএসকে সংস্কৃতির ধারাবাহিকতা: চেন্নাই সুপার কিংসের নিজস্ব একটি ঘরানা রয়েছে। ধোনি প্রধান কোচ হলে দলের সেই চেনা সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের কোনো ক্ষতি হবে না।
এখন দেখার বিষয়, ২০২৭ সালের মেগা নিলামের আগে মহেন্দ্র সিং ধোনি মেন্টর বা প্রধান কোচ হিসেবে চেন্নাই সুপার কিংসের ডাগআউটে অফিশিয়ালি ফিরে আসেন কি না। তবে অশ্বিনের এই দাবি যে কোটি কোটি সিএসকে ভক্তের মনের কথা, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।