Pakistan Players’ Revolt vs Mohsin Naqvi’s PCB After Bangladesh Defeat Leaked – পাকিস্তান ক্রিকেটে অস্থিরতা: মহসিন নাকভির পিসিবির বিরুদ্ধে খেলোয়াড়দের বিদ্রোহ
পাকিস্তান ক্রিকেটে চরম অস্থিরতা: খেলোয়াড় ও পিসিবি দ্বন্দ্ব
বাংলাদেশ সিরিজ শেষ হয়েছে পাকিস্তানের জন্য এক দুঃস্বপ্ন হিসেবে। ঘরের মাঠে টেস্ট সিরিজে টাইগারদের কাছে ২-০ ব্যবধানে লজ্জাজনক হারের পর থেকেই পাকিস্তান ক্রিকেট দল এক গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। শান মাসুদের নেতৃত্বাধীন এই দলের পারফরম্যান্স এবং পিসিবির সাম্প্রতিক কিছু সিদ্ধান্ত দলের ভেতরে ক্ষোভের আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে পিসিবি প্রধান মহসিন নাকভির বিরুদ্ধে খেলোয়াড়দের একটি বড় অংশের অসন্তোষ এখন আর গোপন নেই।
কেন ক্ষেপেছেন পাকিস্তানি ক্রিকেটাররা?
এই অস্থিরতার মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের দীর্ঘদিনের ফিজিও ক্লিফ ডিকনকে বরখাস্ত করা। ২০১৭ সাল থেকে গত আট বছর ধরে তিনি পাকিস্তান দলের সাথে যুক্ত ছিলেন এবং ক্রিকেটারদের সাথে তার একটি বিশেষ ব্যক্তিগত ও পেশাদার সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক এই সিরিজের পরই তাকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পিসিবি। দলের বোলিং ইউনিটসহ গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়রা এই সিদ্ধান্তকে মেনে নিতে পারেননি। তাদের মতে, দলের সাফল্যের পেছনে ক্লিফ ডিকনের অবদান অনস্বীকার্য ছিল।
ফিজিও অপসারণের পেছনে পিসিবির যুক্তি ও খেলোয়াড়দের প্রতিক্রিয়া
পিসিবির নতুন পরিচালক (স্পোর্টস অ্যান্ড এক্সারসাইজ মেডিসিন) জাভেদ মুঘলের পরামর্শে এই পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পিসিবির অভিযোগ, দলে খেলোয়াড়দের ইনজুরির সমস্যা বেড়ে যাওয়ায় ফিজিওর কাজে ঘাটতি ছিল। তবে এই যুক্তি মানতে নারাজ খেলোয়াড়রা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন খেলোয়াড় জানিয়েছেন, “ফিজিওর কাজ মূলত তাৎক্ষণিক ব্যথা বা ছোটখাটো ইনজুরি সামলানো। দীর্ঘমেয়াদী রিহ্যাবিলিটেশনের দায়িত্ব পিসিবির নিজস্ব মেডিকেল বোর্ডের। অথচ বোর্ড সেই দায়ভার ফিজিওর ওপর চাপিয়ে তাকে সরিয়ে দিচ্ছে।”
ড্রেসিংরুমের অন্দরের দৃশ্য
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্লিফ ডিকনকে বিদায় জানানোর সময় পুরো দল শোকাহত ছিল। এমনকি বিদায়ী অনুষ্ঠানে ডিকনকে আবেগপ্রবণ হতে দেখা গেছে এবং খেলোয়াড়রা তাকে জড়িয়ে ধরে বিদায় জানিয়েছেন। এই ঘটনা প্রমাণ করে যে দলের সিনিয়র ক্রিকেটারদের সাথে তার কতটা সুসম্পর্ক ছিল। শাহিন আফ্রিদি, নাসিম শাহ এবং হারিস রউফের মতো পেসারদের ফিটনেস বজায় রাখতে ডিকনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল বলে মনে করা হয়। এখন প্রশ্ন উঠেছে, নতুন ফিজিও ইফতিখার আহমেদ কি সেই অভাব পূরণ করতে পারবেন?
ভবিষ্যৎ কোন দিকে যাচ্ছে?
বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট টেবিলে পাকিস্তান এখন তলানির দিকে। এমন পরিস্থিতিতে দলের ভেতরে বিদ্রোহ কেবল পারফরম্যান্সকে আরও খারাপ করবে। পিসিবি কি খেলোয়াড়দের দাবি মেনে আবারও ক্লিফ ডিকনকে ফিরিয়ে আনবে? নাকি মহসিন নাকভি তার সিদ্ধান্তে অটল থাকবেন? অস্ট্রেলিয়া সফরের আগে পাকিস্তানের জন্য এই অভ্যন্তরীণ সমস্যা সমাধান করা অত্যন্ত জরুরি। অন্যথায়, পাকিস্তান ক্রিকেটের অন্ধকার সময় আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে।
ক্রিকেট প্রেমীরা এখন তাকিয়ে আছেন পিসিবির পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। বোর্ডের সিদ্ধান্ত আর খেলোয়াড়দের আবেগের এই সংঘাত শেষ পর্যন্ত কীভাবে মিটমাট হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।