Latest Cricket News

বিরাট কোহলিকে নিয়ে রজত পাতিদারের বড় তথ্য প্রকাশ | আইপিএল ২০২৬

Shaurya Rathore · · 1 min read
Share

আরসিবি অধিনায়ক রজত পাতিদারের কণ্ঠে বিরাট বন্দনা

রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (আরসিবি) ভারতীয় ক্রিকেটের অন্যতম জনপ্রিয় এবং আলোচিত ফ্র্যাঞ্চাইজি। আইপিএল ২০২৬-এর এই চলমান মরসুমে তারা আবারও নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করছে। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে এবারও তারা প্রথম দল হিসেবে প্লে-অফে নিজেদের জায়গা পাকা করে নিয়েছে। এই দুর্দান্ত সাফল্যের পেছনে যিনি ব্যাট হাতে এবং অধিনায়ক হিসেবে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তিনি হলেন রজত পাতিদার। গত বছর আরসিবি-কে তাদের প্রথম শিরোপা এনে দেওয়ার পর, এই মরসুমেও পাতিদারের ফর্ম এক কথায় অসাধারণ। আর এই সাফল্যের মাঝেই নিজের মেন্টর এবং ক্রিকেটের আইকন বিরাট কোহলিকে নিয়ে এক বড় সত্য প্রকাশ করেছেন আরসিবি অধিনায়ক রজত পাতিদার।

বিরাট কোহলি বছরের পর বছর ধরে কোটি কোটি ক্রিকেটপ্রেমী এবং তরুণ ক্রিকেটারদের অনুপ্রেরণা জুগিয়ে চলেছেন। ড্রেসিংরুমে তাঁর উপস্থিতি এবং প্রভাব কতটা শক্তিশালী, তা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে রজত পাতিদার বিরাট কোহলির প্রতি তাঁর গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার কথা অকপটে স্বীকার করেছেন। তিনি পরিষ্কার জানিয়েছেন যে, কোহলি এখনও তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় আদর্শ বা আইডল। তিনি আরসিবি-র এই কিংবদন্তির ক্রিকেটীয় মানসিকতা এবং মাঠের ভেতরের আচরণ থেকে প্রতিনিয়ত শিখছেন।

আইপিএল ২০২৬-এ চ্যাম্পিয়ন আরসিবি এবং পাতিদারের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স

আইপিএল ২০২৬-এ রজত পাতিদারের পারফরম্যান্স সত্যিই চোখ ধাঁধানো। তিনি এখন পর্যন্ত ৩ ৩৭ রান সংগ্রহ করেছেন, যেখানে তাঁর গড় ৩৩.৭০ এবং স্ট্রাইক রেট প্রায় ১৯৩-এর কাছাকাছি। এই বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি অধিনায়ক হিসেবেও তিনি অত্যন্ত পরিপক্কতার পরিচয় দিয়েছেন। দলকে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে নিয়ে যাওয়ার পর পাতিদার জানান, বিরাট কোহলির মাঠের ভেতরের অফুরন্ত শক্তি বা এনার্জি তাকে সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ করে। কোহলির এমন কোনো দিক নেই যা পাতিদার অপছন্দ করেন। ২২ মে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে স্পোর্টস্টারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পাতিদার বলেন, ‘আমি ওর মাঠের এনার্জি খুব পছন্দ করি। এমন কিছুই নেই যা আমি ওর অপছন্দ করি। ও আমার আইডল।’ এই বক্তব্য থেকে পরিষ্কার বোঝা যায় যে, আরসিবি ড্রেসিংরুমে বিরাট কোহলির উপস্থিতি তরুণ খেলোয়াড়দের কতটা উদ্বুদ্ধ করে।

মুখোমুখি হওয়া সবচেয়ে কঠিন দুই বোলার

বিশ্বের অন্যতম সেরা ব্যাটার হলেও প্রতিপক্ষ বোলারদের সামলানো সব সময়ই এক বড় চ্যালেঞ্জ। পাতিদারকে যখন জিজ্ঞেস করা হয় যে তাঁর ক্যারিয়ারে মুখোমুখি হওয়া সবচেয়ে কঠিন বোলার কারা, তখন তিনি কোনো দ্বিধা ছাড়াই ভারতের তারকা পেসার জসপ্রীত বুমরাহ এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের রহস্যময় স্পিনার সুনীল নারিনের নাম নেন। এই দুই বোলারের বৈচিত্র্যময় বোলিংয়ের বিরুদ্ধে খেলা যে অত্যন্ত কঠিন, তা অকপটে স্বীকার করেছেন এই আরসিবি অধিনায়ক। বুমরাহের নিখুঁত ইয়র্কার এবং নারিনের রহস্যময় স্পিন যে কোনো ব্যাটারের জন্যই দুঃস্বপ্ন, আর পাতিদারও এর ব্যতিক্রম নন।

নেতৃত্ব দেওয়ার নিজস্ব ধরন এবং ফাফ ডু প্লেসির প্রভাব

রাহুল দ্রাবিড়, অনিল কুম্বলে এবং বিরাট কোহলির মতো কিংবদন্তিরা অতীতে আরসিবি-র অধিনায়কত্ব করেছেন। স্বভাবতই, এই দলের অধিনায়ক হওয়ার চাপ অনেক বেশি। কিন্তু পাতিদার কোনো পূর্বসূরিকে অন্ধভাবে অনুকরণ করতে চান না। তিনি নিজের একটি অনন্য নেতৃত্ব দেওয়ার শৈলী বা স্টাইল তৈরি করতে চান। তবে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার প্রাক্তন অধিনায়ক ফাফ ডু প্লেসির কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছেন। ফাফ যখন আরসিবি-র অধিনায়ক ছিলেন, তখন দলের প্রতিটি খেলোয়াড়ের সঙ্গে তাঁর আচরণ এবং সবাইকে সমান গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি পাতিদারকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল।

পাতিদার বলেন, ‘পূর্বসূরিদের নকল না করাটা খুবই জরুরি ছিল। তবে ডু প্লেসির একটি বিষয় আমাকে দারুণভাবে প্রভাবিত করেছিল—তিনি যেভাবে প্রতিটি খেলোয়াড়ের সঙ্গে কথা বলতেন এবং সবাইকে গুরুত্ব দিতেন। তিনি অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী ছিলেন এবং মাঠে তাঁর শারীরিক ভাষা এক ধরনের কর্তৃত্ব প্রকাশ করত।’ এই শিক্ষা পাতিদারকে বর্তমান মরসুমে দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে এবং প্রতিটি খেলোয়াড়ের থেকে সেরাটা বের করে আনতে সাহায্য করছে।

চন্দ্রকান্ত পন্ডিতের কাছ থেকে পাওয়া অমূল্য শিক্ষা

পাশাপাশি নিজের ক্রিকেটীয় দর্শনের বিকাশে মধ্যপ্রদেশের প্রাক্তন কোচ চন্দ্রকান্ত পন্ডিতের অবদানের কথাও স্মরণ করেছেন পাতিদার। চন্দ্রকান্ত পন্ডিত, যিনি কলকাতা নাইট রাইডার্সেরও প্রাক্তন প্রধান কোচ ছিলেন, তিনি পাতিদারকে শিখিয়েছেন কীভাবে মাঠে নামার আগে একটি ম্যাচ নিয়ে নিখুঁত পরিকল্পনা ও গভীর বিশ্লেষণ করতে হয়। পন্ডিতের এই রণকৌশলগত শিক্ষা পাতিদারকে কেবল একজন ক্রিকেটার হিসেবেই নয়, একজন সফল অধিনায়ক হিসেবে গড়ে তুলতেও সাহায্য করেছে।

পাতিদার তাঁর বক্তব্য শেষ করতে গিয়ে বলেন, ‘চান্দু স্যার আমাকে শিখিয়েছেন কীভাবে একটি ক্রিকেট ম্যাচের জন্য অত্যন্ত সতর্কতার সাথে প্রস্তুতি নিতে হয় এবং কতটা গভীরভাবে তা বিশ্লেষণ করা যায়। তিনি নিজে ২০ বছর খেলেছেন এবং আরও ২০ বছর কোচিং করিয়েছেন। তাঁর এই কৌশলগত শক্তি আমার জন্য সত্যিই চোখ খুলে দেওয়ার মতো ছিল।’ এই সমস্ত অভিজ্ঞতার আলোকেই রজত পাতিদার আজ আরসিবি-কে সাফল্যের শিখরে নিয়ে চলেছেন এবং একজন সফল অধিনায়ক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করছেন।

Shaurya Rathore
Shaurya Rathore

Following the sun and the cricket season worldwide. Your go-to source for international tours and franchise league updates.