Sachin Tendulkar Almost Played BBL With Shane Warne – শেন ওয়ার্নের সাথে বিগ ব্যাশে খেলার কথা ছিল শচীন টেন্ডুলকারের?
ক্রিকেট ইতিহাসের এক অজানা অধ্যায়
ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের আকর্ষণ বিশ্বজুড়ে অনেক কিংবদন্তি ক্রিকেটারকে নতুন নতুন সমীকরণে এনে দাঁড় করিয়েছে। তবে এমন অনেক ঘটনা রয়েছে যা কেবল আলোচনার টেবিলেই সীমাবদ্ধ থেকে গেছে। তেমনি একটি চমকপ্রদ তথ্য হলো, ভারতের ক্রিকেট ঈশ্বর শচীন টেন্ডুলকার এবং অস্ট্রেলিয়ান কিংবদন্তি শেন ওয়ার্নের বিগ ব্যাশ লিগে (BBL) একসাথে খেলার সম্ভাবনা। ২০১৩ সালের শেষের দিকে যখন অস্ট্রেলিয়ার এই ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগটি তার শৈশব পার করছিল, তখনই মেলবোর্ন স্টারস এমন এক অবিশ্বাস্য পরিকল্পনা করেছিল।
[ছবিসূত্র: এএফপি]
মেলবোর্ন স্টারসের সেই সাহসী প্রস্তাব
মেলবোর্ন স্টারসের প্রাক্তন চেয়ারম্যান এডি ম্যাকগুইয়ার সম্প্রতি এক বিস্ফোরক সাক্ষাৎকারে এই গোপন তথ্য ফাঁস করেছেন। তিনি জানান, স্টেডিয়ামে দর্শক টানার লক্ষ্যে তারা শচীন টেন্ডুলকারকে একটি নির্দিষ্ট ম্যাচের জন্য দলে ভেড়ানোর পরিকল্পনা করেছিলেন। ম্যাকগুইয়ারের মতে, তিনি সেই সময় বলেছিলেন, ‘আমি যদি শচীন টেন্ডুলকারকে আনতে পারি, তবে আমি এই মাঠ পাঁচবার ভরিয়ে ফেলতে পারব।’ যদি এই পরিকল্পনা সফল হতো, তবে অবসরের পর শচীনকে কোনো অস্ট্রেলিয়ান ফ্র্যাঞ্চাইজি দলের জার্সিতে দেখাটা ক্রিকেট বিশ্বের জন্য এক অভাবনীয় দৃশ্য হতো।
শচীন এবং ওয়ার্নের ক্রিকেট সম্পর্ক
যদিও মেলবোর্ন স্টারসের হয়ে তাদের একসাথে খেলার স্বপ্ন পূরণ হয়নি, তবুও পরবর্তীকালে তারা দুজনে একই মাঠে নেমেছিলেন। ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত ‘ক্রিকেট অল স্টারস’ সিরিজে শচীন টেন্ডুলকার এবং শেন ওয়ার্ন একে অপরের মুখোমুখি হয়েছিলেন। সেখানে ‘শচীন ব্লাস্টার্স’ এবং ‘ওয়ার্ন ওয়ারিয়র্স’-এর মধ্যকার সিরিজে ওয়ার্নের দল ৩-০ ব্যবধানে জয়লাভ করেছিল। তাদের এই বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা আজও ক্রিকেট ভক্তদের স্মৃতিতে উজ্জ্বল।
অস্ট্রেলিয়ার জার্সিতে শচীন
মেলবোর্ন স্টারসের প্রস্তাব বাস্তবায়িত না হলেও, শচীন অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অনন্য এক মহৎ উদ্দেশ্যে অস্ট্রেলিয়ান জার্সিতে মাঠে নেমেছিলেন। ২০২০ সালে অস্ট্রেলিয়ার দাবানলে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার জন্য আয়োজিত ‘বুশফায়ার ক্রিকেট ব্যাশ’-এ শচীন অংশগ্রহণ করেন। সেই প্রদর্শনী ম্যাচে জংশন ওভালে তিনি অস্ট্রেলিয়ার নারী দলের দুই তারকা এলিস পেরি এবং অ্যানাবেল সাদারল্যান্ডের মুখোমুখি হয়ে ব্যাটিং করেছিলেন। সেই মুহূর্তে তাকে অস্ট্রেলিয়ার হলুদ জার্সিতে দেখাটা ভক্তদের জন্য ছিল এক আবেগের মুহূর্ত।
শচীন যখন পাকিস্তানের হয়ে ফিল্ডিং করেছিলেন
শচীনের ক্রিকেটীয় জীবন বৈচিত্র্যে ভরা। অস্ট্রেলিয়ান দলে খেলার সম্ভাবনা না থাকলেও, আশ্চর্যজনকভাবে কিশোর বয়সে শচীন পাকিস্তানের হয়ে মাঠে নেমেছিলেন। ঘটনাটি ১৯৮৭ সালের, যখন শচীনের বয়স মাত্র ১৩ বছর। মুম্বাইয়ে ভারত বনাম পাকিস্তান একটি প্রদর্শনী ম্যাচ চলাকালীন পাকিস্তানের খেলোয়াড় কম থাকায় ইমরান খানের অনুরোধে শচীন বদলি ফিল্ডার হিসেবে মাঠে নামেন। প্রায় ২৫ মিনিট তিনি সীমানার কাছাকাছি ফিল্ডিং করেছিলেন। সেই শচীনই পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সর্বকালের সেরা ব্যাটার হয়ে ওঠেন এবং ২০১১ সালে তার নিজের শহর মুম্বাইয়েই বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরেন।
উপসংহার
ক্রিকেটের এই ছোট ছোট ঘটনাগুলোই খেলাটিকে আরও বেশি আকর্ষণীয় করে তোলে। শচীন টেন্ডুলকারের ক্যারিয়ারে এমন অনেক অজানা গল্প রয়েছে যা আমাদের বারবার মনে করিয়ে দেয় কেন তিনি ক্রিকেটের বরপুত্র। যদিও মেলবোর্ন স্টারসের সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়নি, তবুও শচীন এবং ওয়ার্নের মতো কিংবদন্তিদের একসাথে দেখার আকাঙ্ক্ষা আজও ক্রিকেটপ্রেমীদের হৃদয়ে গেঁথে আছে।