Sachin Tendulkar came close to playing in the BBL! Official video reveals shocki – বিগ ব্যাশ লিগে শচীন টেন্ডুলকার! মেলবোর্ন স্টারসের সেই অজানা পরিকল্পনা
শচীন টেন্ডুলকার কি বিগ ব্যাশে খেলতেন?
ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান শচীন টেন্ডুলকারকে অস্ট্রেলিয়ার জার্সিতে দেখা যাওয়াটা একসময় কল্পনা করাও অসম্ভব ছিল। ক্যারিয়ারজুড়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অসংখ্য ঐতিহাসিক ইনিংস খেলা এই মাস্টার ব্লাস্টারকে নিয়ে বিগ ব্যাশ লিগের (বিবিএল) একটি ফ্র্যাঞ্চাইজি যে পরিকল্পনা করেছিল, তা এখন ক্রিকেট মহলে রীতিমতো হইচই ফেলে দিয়েছে। মেলবোর্ন স্টারসের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট এডি ম্যাকগুয়ার সম্প্রতি এক ভিডিওতে জানিয়েছেন, তারা শচীনকে অবসর থেকে ফিরিয়ে এনে তাদের দলে খেলানোর পরিকল্পনা করেছিলেন।
কী ছিল মেলবোর্ন স্টারসের সেই পরিকল্পনা?
মেলবোর্ন স্টারসের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট এডি ম্যাকগুয়ার জানিয়েছেন, তাদের দলে তারকা ক্রিকেটারের অভাব ছিল। সেই অভাব পূরণ করতে এবং স্টেডিয়ামে দর্শকের উপস্থিতি বহুগুণ বাড়াতে তারা শচীন টেন্ডুলকারকে দলে ভেড়ানোর চিন্তাভাবনা করেছিলেন। ম্যাকগুয়ারের মতে, শচীনকে দলে পাওয়া গেলে মাঠের দর্শক ধারণক্ষমতা কয়েক গুণ ছাড়িয়ে যেত। তিনি চেয়েছিলেন শচীন টেন্ডুলকার ও কিংবদন্তি লেগ স্পিনার শেন ওয়ার্নকে এক রাতের জন্য একই দলে দেখতে। এটি অজি ক্রিকেটের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ইভেন্ট হতে পারতো বলে তিনি মনে করেন।
কেন শচীনকে চেয়েছিল মেলবোর্ন?
এডি ম্যাকগুয়ার বলেন, সেই সময়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের জটিল সমীকরণে মেলবোর্ন স্টারসের অনেক খেলোয়াড়কে বিভিন্ন কারণে জাতীয় দলে ডাকা হতো বা অন্য কাজে ব্যস্ত থাকতে হতো। এতে ফ্র্যাঞ্চাইজির ভারসাম্য বিঘ্নিত হচ্ছিল। সেই ক্ষোভ থেকেই তিনি কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব করেছিলেন যে, যদি তার দলের চারজন খেলোয়াড়কে জাতীয় দল নিয়ে নেয়, তবে অন্তত একজন বিশ্বমানের আন্তর্জাতিক তারকাকে দলে নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হোক। সেই জায়গা থেকেই শচীনের নাম প্রস্তাব করেছিলেন তিনি। ম্যাকগুয়ারের কথায়, ‘আমি শুধু আন্তর্জাতিক অঙ্গনের কথা ভাবছিলাম। আমি বলেছিলাম, যদি আমি শচীন টেন্ডুলকারকে আনতে পারি, তবে আমি এই মাঠ পাঁচবার পূর্ণ করতে পারব।’
সাফল্যের সেই স্বপ্ন কেন বাস্তবে রূপ নেয়নি?
দুর্ভাগ্যবশত, এই পরিকল্পনা কখনোই আলোর মুখ দেখেনি। ২০১৩ সালের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার পর শচীন টেন্ডুলকার তার সিদ্ধান্তে অবিচল ছিলেন। মেলবোর্ন স্টারসের পক্ষ থেকে অনেক চেষ্টা করা হলেও, তিনি পেশাদার ক্রিকেটের মূলধারায় ফিরে আসার আগ্রহ দেখাননি। ম্যাকগুয়ার আক্ষেপ করে বলেন, তাদের ইচ্ছা ছিল অন্তত একটি ফাইনাল ম্যাচে শচীনকে মাঠে নামানো। তিনি শচীন ও শেন ওয়ার্নকে একত্রে দেখার স্বপ্ন দেখেছিলেন, যা ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে স্মরণীয় রাত হতে পারতো।
শচীন ও অস্ট্রেলিয়া: একটি নতুন সংযোগ
যদিও বিগ ব্যাশে শচীন খেলেননি, তবে অস্ট্রেলিয়ার সাথে তার সম্পর্ক সবসময়ই চমৎকার। ২০১৫ সালে ‘ক্রিকেট অল স্টারস’ সিরিজে শচীন এবং ওয়ার্নকে একই দলে দেখা গিয়েছিল। এরপর ২০২০ সালে অস্ট্রেলিয়ার দাবানলে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার জন্য আয়োজিত ‘বুশফায়ার ক্রিকেট ব্যাশ’ ম্যাচে প্রথমবারের মতো শচীনকে হলুদ জার্সি পরিহিত অবস্থায় দেখা গিয়েছিল, যা ক্রিকেট ভক্তদের জন্য ছিল এক আবেগঘন মুহূর্ত।
উপসংহার
শচীন টেন্ডুলকারকে মেলবোর্ন স্টারসের জার্সিতে দেখাটা ছিল কেবলই একটি রোমাঞ্চকর পরিকল্পনা। যদিও এটি বাস্তবায়িত হয়নি, তবুও এই খবরটি প্রমাণ করে যে শচীনের জনপ্রিয়তা এবং প্রভাব কেবল ভারতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বিশ্বজুড়ে ক্রিকেট ভক্তদের কাছে তিনি আজও এক অবিসংবাদিত নায়ক। মেলবোর্ন স্টারসের এই অজানা কাহিনী ক্রিকেট ইতিহাসের পাতায় এক চমৎকার উপাখ্যান হয়ে থাকবে।