Fact Check- Did Umpire Anil Chaudhary Count Sai Sudharsan’s Dismissal Unfair? – সাই সুদর্শনের হিট উইকেট বিতর্ক ও অনিল চৌধুরীর ভিডিওর সত্যতা যাচাই
আইপিএল ২০২৬: কোয়ালিফায়ার ১-এ সাই সুদর্শনের বিতর্কিত আউট
গুজরাট টাইটানস (GT) এবং রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর (RCB) মধ্যকার আইপিএল ২০২৬-এর প্রথম কোয়ালিফায়ার ম্যাচটি ক্রিকেট ভক্তদের মনে দীর্ঘস্থায়ী ছাপ ফেলে গেছে। ধর্মশালার হিমাচল প্রদেশ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন স্টেডিয়ামে আয়োজিত এই ম্যাচে আরসিবি তাদের দুর্দান্ত ব্যাটিং প্রদর্শনীতে ২৫৪/৫ সংগ্রহ করে আইপিএল প্লে-অফ ইতিহাসে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড গড়ে। তবে এই ম্যাচের মূল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে সাই সুদর্শনের বিতর্কিত ‘হিট উইকেট’ dismissal।
ম্যাচের প্রেক্ষাপট এবং আরসিবির আধিপত্য
টস জিতে গুজরাটের অধিনায়ক শুভমান গিল প্রথমে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কিন্তু রজত পাটিদারের বিধ্বংসী ৯৩ রানের অপরাজিত ইনিংস এবং বিরাট কোহলির শুরুর দিকের পারফরম্যান্সে আরসিবি পাহাড়সম লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে। জবাবে ব্যাট করতে নেমে গুজরাটের ব্যাটিং লাইনআপ তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে। রাহুল তেওয়াটিয়ার ব্যক্তিগত ৬৮ রান ছাড়া আর কেউ উল্লেখযোগ্য প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত ৯২ রানে ম্যাচ জিতে আরসিবি সরাসরি ফাইনালে জায়গা করে নেয়।
সাই সুদর্শনের আউট ও অনিল চৌধুরীর ভিডিও বিতর্ক
গুজরাটের ব্যাটিংয়ের শুরুতেই সাই সুদর্শন জ্যাকব ডাফির বলে হিট উইকেট হয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন। বলটি ব্যাকফুটে খেলে বাউন্ডারির দিকে পাঠালেও, ফলো-থ্রুর সময় তার ব্যাট স্টাম্পে আঘাত করে বেল ফেলে দেয়। এরপর সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও ভাইরাল হয়, যেখানে প্রাক্তন আন্তর্জাতিক আম্পায়ার অনিল চৌধুরীকে বলতে শোনা যায় যে, শট খেলার পর যদি ব্যাটারের কোনো কিছু স্টাম্পে লাগে, তবে তা হিট উইকেট হিসেবে গণ্য হবে না।
অনিল চৌধুরী ভিডিওতে জানান, ‘আইন ৩৫.২ অনুযায়ী, যদি শট সম্পন্ন করার পর ব্যাটারের কোনো সরঞ্জাম স্টাম্পে লাগে, তবে তা আউট নয়।’ এই ভিডিওটি প্রকাশের পরপরই সমর্থকরা দাবি করতে শুরু করেন যে, সুদর্শনের আউটটি ছিল অন্যায়।
ফ্যাক্ট চেক: সত্যটা কী?
তবে নিবিড় পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, অনিল চৌধুরীর ওই ভিডিওটি সাই সুদর্শনের ঘটনার প্রেক্ষিতে তৈরি করা হয়নি। বরং এটি অন্য একটি ঘটনার প্রেক্ষিতে কোনো এক ভক্তের প্রশ্নের উত্তর ছিল। এমসিসি (MCC) ক্রিকেট আইন ৩৫.১ অনুযায়ী:
- ব্যাটার যখন শট খেলছেন এবং বলটি খেলায় আছে, তখন ব্যাট বা ব্যাটারের শরীরের কোনো অংশ স্টাম্পে লাগলে তা হিট উইকেট হিসেবে গণ্য হবে।
- শট খেলার পর রান নেওয়ার মুহূর্তে বা বল খেলার প্রক্রিয়ার মধ্যে স্টাম্প ভেঙে গেলে সেটি আউট বলেই বিবেচিত হবে।
সুদর্শনের ক্ষেত্রে, বলটি খেলার সময়ই তার ব্যাট স্টাম্পে আঘাত করেছিল, যা স্পষ্টভাবে আইনের আওতায় হিট উইকেট হওয়ার শর্ত পূরণ করে। সুতরাং, আম্পায়ারের সিদ্ধান্তটি সম্পূর্ণ আইনসম্মত ছিল এবং অনিল চৌধুরীর ভাইরাল ভিডিওটি এই ঘটনার সাথে কোনোভাবেই প্রাসঙ্গিক নয়।
গুজরাট টাইটানসের পরবর্তী সুযোগ
প্রথম কোয়ালিফায়ারে হারলেও, গুজরাট টাইটানসের সামনে ফাইনালের টিকিট কাটার সুযোগ এখনো শেষ হয়ে যায়নি। তারা এখন সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ ও রাজস্থান রয়্যালসের মধ্যকার এলিমিনেটর ম্যাচের বিজয়ী দলের মুখোমুখি হবে কোয়ালিফায়ার ২-এ। এই ম্যাচটি ২৯ মে মুল্লানপুরে অনুষ্ঠিত হবে। অন্যদিকে, আরসিবি আগামী ৩১ মে আহমেদাবাদে অনুষ্ঠিতব্য ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষের অপেক্ষায় থাকবে।
ক্রিকেট প্রেমীদের জন্য এই ঘটনাটি আইনের সঠিক প্রয়োগ সম্পর্কে জানার একটি বড় সুযোগ করে দিয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া তথ্যের সত্যতা যাচাই না করে কোনো সিদ্ধান্তে আসা যে কতটা বিভ্রান্তিকর হতে পারে, এটি তারই একটি বড় উদাহরণ।