Watch – After Chucking Complaint, Tom Banton Destroys Pakistan’s Usman Tariq
ক্রিকেট মাঠে নতুন উত্তাপ: ব্যান্টন বনাম তারিক
ক্রিকেট মাঠে কৌশলগত লড়াইয়ের পাশাপাশি অনেক সময় ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বও বড় হয়ে ওঠে। সম্প্রতি ইংল্যান্ডের ব্যাটার টম ব্যান্টন এবং পাকিস্তানের স্পিনার উসমান তারিকের মধ্যকার লড়াই এমনই এক উত্তপ্ত পরিস্থিতির জন্ম দিয়েছে। টি-টোয়েন্টি ব্লাস্ট ২০২৬-এর একটি ম্যাচে ব্যান্টন যেন তার পুরনো ক্ষোভের প্রতিশোধ নিলেন তারিকের বিরুদ্ধে ছক্কা হাঁকিয়ে। Watch – After Chucking Complaint, Tom Banton Destroys Pakistan’s Usman Tariq শিরোনামে এই ঘটনা এখন ক্রিকেট প্রেমীদের মুখে মুখে।
এডজবাস্টন গ্রাউন্ডে ওয়ারউইকশায়ার এবং সমারসেটের মধ্যকার ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে ওয়ারউইকশায়ার ১৮৯ রানের লড়াকু সংগ্রহ দাঁড় করায়। দলের হয়ে স্যাম হেইন অর্ধশতক করেন এবং রবার্ট ইয়েটস ও বিউ ওয়েবস্টার ৪০-এর বেশি রান সংগ্রহ করেন। তবে লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে সমারসেট শুরু থেকেই ছিল আগ্রাসী মেজাজে।
ব্যান্টনের বিধ্বংসী মেজাজ
সমারসেটের হয়ে ওপেন করতে নেমে টম ব্যান্টন ছিলেন দুর্দান্ত। মাত্র ২৬ বলে ৪৭ রানের একটি ইনিংস খেলেন তিনি, যেখানে ছিল ৬টি চার এবং ২টি বিশাল ছক্কা। তার এই ইনিংসের হাইলাইট ছিল উসমান তারিকের বিপক্ষে নেওয়া আগ্রাসী পদক্ষেপ। তারিকের একটি বলকে আগে থেকেই অনুমান করে রিভার্স সুইপ করে স্কয়ার লেগের ওপর দিয়ে ছক্কা হাঁকান ব্যান্টন। বলটি সীমানার কাছে ফিল্ডারের হাত ছুঁয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত তা ছক্কায় পরিণত হয়।
এই ঘটনাটি কেবল একটি সাধারণ ছক্কা নয়, বরং এর পেছনে রয়েছে এক দীর্ঘস্থায়ী বিতর্ক। এর আগে আইএলটি২০ টুর্নামেন্টে খেলার সময় ব্যান্টন প্রকাশ্যে উসমান তারিকের বোলিং অ্যাকশন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন এবং তাকে ‘চাকিং’ বা অবৈধভাবে বল করার অভিযোগ করেছিলেন। সেই তিক্ত স্মৃতির রেশ ধরে এবারের টি-টোয়েন্টি ব্লাস্টে ব্যান্টনের এই ব্যাটিং পারফরম্যান্স ছিল এক মোক্ষম জবাব।
পুরানো বিতর্ক: আইএলটি২০-এর সেই ঘটনা
টম ব্যান্টন এবং উসমান তারিকের এই দ্বন্দ্বের সূত্রপাত হয়েছিল আইএলটি২০ ২০২৫-২৬ আসরে। এমআই এমিরেটস এবং ডেজার্ট ভাইপার্সের মধ্যকার প্রথম কোয়ালিফায়ার ম্যাচে ব্যান্টন যখন ৬৩ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলছিলেন, তখন তারিক তাকে আউট করেন। সেই ম্যাচে তারিকের একটি ক্যারম বল বুঝতে না পেরে ব্যান্টন স্যাম কারানের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান। মাঠ ছাড়ার সময় ব্যান্টনকে স্পষ্টভাবে বলতে শোনা গিয়েছিল যে, তারিক বল ‘ছুঁড়ে’ মারছেন। তার এই অভিযোগ তৎক্ষণাৎ ক্রিকেট মহলে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি করেছিল।
চাকিং বিতর্ক ও উসমান তারিকের বোলিং অ্যাকশন
ক্রিকেটে ‘চাকিং’ বা অবৈধ বোলিং অ্যাকশন একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়। আইসিসি-র নিয়ম অনুযায়ী, একজন বোলার ডেলিভারি করার সময় কনুই ১৫ ডিগ্রির বেশি সোজা করতে পারবেন না। উসমান তারিকের বোলিং অ্যাকশনে একটি অদ্ভুত বিরতি এবং অস্বাভাবিক হাতের ভঙ্গি লক্ষ্য করা যায়, যা অনেক ব্যাটারের কাছেই অস্বস্তিকর। ব্যান্টনের পাশাপাশি ক্যামেরন গ্রিনের মতো ব্যাটাররাও অতীতে তারিকের অ্যাকশন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
আইসিসি অবশ্য অতীতে তারিকের অ্যাকশন পরীক্ষা করেছে এবং তাকে বৈধ ঘোষণা করেছে। বর্তমানে তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলছেন কোনো বাধা ছাড়াই। তবে বিতর্কের দাগ সহজে মুছে যায় না। ক্রিকেট ভক্তদের স্মৃতিতে তার এই বোলিং স্টাইল এবং তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো গেঁথে আছে। যতক্ষণ না তারিক তার এই অস্বাভাবিক ডেলিভারি অ্যাকশনে পরিবর্তন আনছেন, ততক্ষণ এই ‘চাকার’ তকমা থেকে মুক্তি পাওয়া তার জন্য কঠিন হতে পারে।
ম্যাচের ফল ও সমারসেটের জয়
ব্যান্টনের শুরুটা দলকে দারুণ আত্মবিশ্বাস দিয়েছিল। তার আউট হওয়ার পর জেমস রু ৪৬ বলে ৯৩ রানের একটি দুর্দান্ত ইনিংস খেলে সমারসেটকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন। সমারসেট ১০ বল হাতে রেখেই ৭ উইকেটের এক সহজ জয় তুলে নেয়। এই জয় কেবল পয়েন্ট টেবিলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ ছিল না, বরং ব্যান্টনের ব্যক্তিগত প্রতিশোধের তৃপ্তিও ছিল দেখার মতো।
পরিশেষে বলা যায়, ক্রিকেট মাঠের এই ধরনের ব্যক্তিগত প্রতিদ্বন্দ্বিতা খেলার উত্তজনাকে আরও বাড়িয়ে দেয়। ব্যান্টনের এই সাহসিকতা ভবিষ্যতে বোলারদের ওপর আরও চাপ সৃষ্টি করবে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।