Vaibhav Sooryavanshi’s Pakistan Equivalent Named By Pakistani Legend – আইপিএল ২০২৬: বৈভব সূর্যবংশীকে শহীদ আফ্রিদির সাথে তুলনা করলেন মোহাম্মদ ইউসুফ
আইপিএল ২০২৬-এ বৈভব সূর্যবংশীর অবিশ্বাস্য উত্থান
আইপিএল ২০২৬ মৌসুমটি যেন পুরোপুরি বৈভব সূর্যবংশীর দখলে। রাজস্থান রয়্যালসের এই তরুণ ব্যাটার তার অনবদ্য ব্যাটিং নৈপুণ্য দিয়ে ক্রিকেট প্রেমীদের অবাক করে দিয়েছেন। চলতি মৌসুমে একের পর এক রেকর্ড ভেঙে তিনি যেভাবে প্রতিপক্ষের বোলারদের ওপর চড়াও হয়েছেন, তাতে তাকে নিয়ে আলোচনার ঝড় উঠেছে। ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, অদূর ভবিষ্যতে ভারতীয় টি২০ দলে তাকে দেখার সম্ভাবনা প্রবল। যদিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ভার নির্বাচকদের হাতে, তবে বৈভবের ফর্ম যে কাউকেই ভাবিয়ে তুলবে, তা বলাই বাহুল্য।
রেকর্ড বইয়ে বৈভব
রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে ওপেনার হিসেবে খেলা বৈভব সূর্যবংশী এবারের আইপিএলে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছেন। তিনি এক আইপিএল মৌসুমে সর্বোচ্চ ছক্কা মারার রেকর্ড গড়েছেন। ১৪ বছর আগে ক্রিস গেইলের গড়া ৫৯ ছক্কার রেকর্ড ভেঙে তিনি এবারের আসরে হাঁকিয়েছেন মোট ৬৫টি ছক্কা। এছাড়া যেকোনো টি২০ টুর্নামেন্টে দ্রুততম ৫০ ছক্কা মারার রেকর্ডও এখন তার দখলে। আইপিএলে সর্বকনিষ্ঠ চুক্তিবদ্ধ খেলোয়াড় হিসেবে অভিষেক হওয়া বৈভব ইতোমধ্যেই বিশ্ব ক্রিকেটের নজরে পড়েছেন। ভারতীয় দলের অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবও তার ব্যাটিং প্রতিভা নিয়ে ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।
মোহাম্মদ ইউসুফের চোখে বৈভব ও আফ্রিদি
পাকিস্তানের প্রাক্তন ক্রিকেটার এবং অনূর্ধ্ব-১৯ দলের কোচ মোহাম্মদ ইউসুফ বৈভবের ব্যাটিং দেখে মুগ্ধ। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডলে ইউসুফ বৈভবের ব্যাটিং শৈলীকে পাকিস্তানের কিংবদন্তি শহীদ আফ্রিদির শুরুর দিকের সময়ের সাথে তুলনা করেছেন। ইউসুফের মতে, বৈভবের মধ্যে আফ্রিদির মতো সেই নির্ভীকতা এবং বিস্ফোরক শক্তির প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই মন্তব্য আসার পর থেকেই নেটপাড়ায় শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। বৈভব কি সত্যিই আগামীর আফ্রিদি হয়ে উঠছেন?
পরিসংখ্যানের বিচারে কে এগিয়ে?
শহীদ আফ্রিদি ১৬ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রাখেন। ১৯৯৬ সালে কেনিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে দিয়ে শুরু করে তিনি খুব দ্রুত দলের অন্যতম অলরাউন্ডার হয়ে ওঠেন। তবে শুরুর দিকে আফ্রিদির ব্যাটিং গড় ছিল তুলনামূলক কম। ১৬ থেকে ১৭ বছর বয়সের মধ্যে ৫৬টি ম্যাচ খেলে আফ্রিদি ২৪.২৯ গড়ে ১২৩৯ রান করেছিলেন এবং ৩৭টি উইকেট তুলে নিয়েছিলেন। অন্যদিকে, বৈভব সূর্যবংশী মূলত একজন বিশেষজ্ঞ ওপেনার হিসেবে আইপিএলে দাপট দেখাচ্ছেন। আফ্রিদি অলরাউন্ডার হিসেবে খেলেছেন, আর বৈভব তার পাওয়ার হিটিংয়ের জন্য বিখ্যাত। যদিও বর্তমানের টি২০ ক্রিকেট আর নব্বইয়ের দশকের ওয়ানডে ক্রিকেটের মধ্যে তুলনা করা কঠিন, তবুও বৈভবের এই বিধ্বংসী রূপ ক্রিকেট ভক্তদের মনে এক নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
রাজস্থান রয়্যালসের পরবর্তী লক্ষ্য
আইপিএল ২০২৬-এর ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে রাজস্থান রয়্যালসের সামনে এখন গুজরাট টাইটান্স। কোয়ালিফায়ার ২ ম্যাচে দলের জয়ের জন্য বৈভব সূর্যবংশীর ব্যাটের দিকে তাকিয়ে আছে পুরো দল। পাওয়ারপ্লেতে তার আক্রমণাত্মক ব্যাটিং যদি আবারো দেখা যায়, তবে রাজস্থান রয়্যালসের ফাইনালে ওঠা অনেকটাই সহজ হয়ে যাবে। ২৯ মে গুজরাটের বিপক্ষে জয়ের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে পিংক আর্মি। যদি রাজস্থান জয়ী হয়, তবে ৩১ মে ফাইনালে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর বিপক্ষে শিরোপা জয়ের লড়াইয়ে নামবে তারা। এখন দেখার পালা, বৈভব তার এই অসাধারণ ফর্ম কোয়ালিফায়ার ম্যাচে বজায় রাখতে পারেন কি না।
তরুণ বৈভবের ক্রিকেট ক্যারিয়ার সবে শুরু। যেভাবে তিনি নিজেকে মেলে ধরছেন, তাতে ভারতের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ যে নিরাপদ হাতে রয়েছে, সে কথা নির্দ্বিধায় বলা যায়। এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা, তিনি জাতীয় দলে সুযোগ পেয়ে নিজেকে কতটা প্রমাণ করতে পারেন।