Sangakkara on Sooryavanshi: ‘I’m sure that he’ll get that call-up very, very soo – আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের অপেক্ষায় ১৫ বছরের বৈভব সূর্যবংশী: কুমার সাঙ্গাকারা
বৈভবের উত্থান: সাঙ্গাকারার চোখে ভবিষ্যৎ তারকা
আইপিএল ২০২৬ মৌসুমটি রাজস্থান রয়্যালসের জন্য ছিল বেশ চ্যালেঞ্জিং, কিন্তু এই মৌসুমেই বিশ্ব ক্রিকেট উপহার পেয়েছে এক নতুন বিস্ময়—১৫ বছর বয়সী বৈভব সূর্যবংশী। রাজস্থান রয়্যালসের প্রধান কোচ কুমার সাঙ্গাকারা বৈভবের পারফরম্যান্স দেখে মুগ্ধ এবং তিনি বিশ্বাস করেন, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের আঙিনায় পা রাখার সময় এই তরুণের খুব দ্রুতই হয়ে গেছে।
অভাবনীয় পরিসংখ্যান ও পরিপক্কতা
মাত্র ১৫ বছর বয়সে বৈভব সূর্যবংশী যে অবিশ্বাস্য ধারাবাহিকতা দেখিয়েছেন, তা যেকোনো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ের জন্য ঈর্ষণীয়। টুর্নামেন্টে ১৬ ইনিংসে তিনি মোট ৭৭৬ রান সংগ্রহ করেছেন। তার স্ট্রাইক রেট ছিল ২৩৭.৩০, যা তার বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের প্রমাণ দেয়। সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, তার মোট রানের মধ্যে ৬৮৪ রানই এসেছে কেবল বাউন্ডারি থেকে। সাঙ্গাকারার মতে, বৈভব কেবল রানই করছেন না, বরং তিনি অত্যন্ত পরিপক্কতার সাথে ওপেনিং জুটির দায়িত্ব সামলেছেন।
চাপের মুখে বৈভবের দৃঢ়তা
গুজরাট টাইটানসের বিপক্ষে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে বৈভবের ব্যাটিং দক্ষতা ছিল চোখে পড়ার মতো। নিউ চণ্ডীগড়ের দুই ধরনের পিচে যখন গুজরাটের লম্বা উচ্চতার পেসাররা তাকে শর্ট বলের জালে ফেলার চেষ্টা করছিলেন, তখন বৈভব দারুণ বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দেন। তিনি চাপের মুখেও ৪৭ বলে ৯৬ রানের একটি ইনিংস খেলেন। সাঙ্গাকারা তার এই স্বচ্ছ চিন্তা এবং চাপের মুখে শান্ত থাকার ক্ষমতাকে বিশেষভাবে প্রশংসা করেছেন।
সাঙ্গাকারার কোচিং দর্শন
কোচ সাঙ্গাকারা জানিয়েছেন যে, তারা বৈভবের ওপর কোনো বাড়তি চাপ বা চিন্তার বোঝা চাপিয়ে দেন না। তিনি বলেন, ‘আমরা ওর মস্তিষ্কে অতিরিক্ত কিছু ঢুকিয়ে দিই না। সে আমাদের টিম মিটিংয়ে অংশগ্রহণ করে, মনোযোগ দিয়ে শোনে এবং প্রচুর পড়াশোনা করে। সে বোলারদের ভিডিও দেখে তাদের ভালোমতো পড়তে পারে। আমরা শুধু চাই সে খোলা মনে এবং সাহসের সাথে ব্যাটিং করুক।’
দলগত পারফরম্যান্স ও ভবিষ্যতের সম্ভাবনা
রাজস্থান রয়্যালসের এই মৌসুমে বেশ কিছু চোটের সমস্যা ছিল। স্যাম কারান পুরো মৌসুম খেলতে পারেননি, রিয়ান পরাগ এবং রবীন্দ্র জাদেজাও ইনজুরির সাথে লড়েছেন। এমন প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও ব্রজেশ শর্মা এবং যশ রাজ পুঞ্জার মতো তরুণ খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স দলের কোচিং স্টাফদের সন্তুষ্ট করেছে।
সাঙ্গাকারা বলেন, ‘সবাই নিজেদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। গত বছর আমরা নবম স্থানে ছিলাম, সেখান থেকে প্লে-অফ পর্যন্ত উঠে আসাটা আমাদের দলের উন্নতির বড় লক্ষণ। যদিও আমরা ফাইনালে উঠতে পারিনি, কিন্তু আমি দলের সবার জন্য গর্বিত।’
রিয়ান পরাগের নেতৃত্বের প্রশংসা
প্রথমবার আইপিএলে পূর্ণাঙ্গ অধিনায়কত্ব করা রিয়ান পরাগের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন সাঙ্গাকারা। কোচ মনে করেন, রিয়ান তার অন-ফিল্ড সিদ্ধান্তগুলো দারুণভাবে পরিচালনা করেছেন এবং সময় গড়ানোর সাথে সাথে তিনি আরও পরিণত হবেন। সাঙ্গাকারার মতে, মৌসুমে শুরুতে অনেকেই তাদের প্লে-অফে ওঠার সম্ভাবনা দেখেনি, কিন্তু কঠোর পরিশ্রম এবং সঠিক মানসিকতার মাধ্যমে তারা বিশেষ কিছু অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।
সব মিলিয়ে, বৈভব সূর্যবংশীর মতো প্রতিভাদের হাত ধরে রাজস্থান রয়্যালস এবং ভারতীয় ক্রিকেট যে এক উজ্জ্বল ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, তা বলাই বাহুল্য। এখন দেখার বিষয়, নির্বাচকদের নজর কবে বৈভবের ওপর পড়ে এবং তিনি কবে জাতীয় দলের জার্সি গায়ে জড়ান।