Babar Azam’s Team Owner Sets Sights On Vaibhav Sooryavanshi – আইপিএলে ঝড় তোলা বৈভব সূর্যবংশীর প্রশংসায় বাবর আজমের দলের মালিক
আইপিএলের নতুন বিস্ময় বৈভব সূর্যবংশী
আইপিএল ২০২৬-এর মঞ্চে এক নতুন তারার উদয় হয়েছে। রাজস্থান রয়্যালসের ১৫ বছর বয়সী ব্যাটার বৈভব সূর্যবংশী যেন নিজের ব্যাট দিয়ে রূপকথা লিখছেন। এলিমিনেটর ম্যাচে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের বোলারদের পিটিয়ে তছনছ করে দিয়ে মাত্র ২৯ বলে ৯৭ রান সংগ্রহ করেন তিনি। তার এই অবিশ্বাস্য ব্যাটিং আইপিএলের ইতিহাসে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড ভাঙার খুব কাছে নিয়ে গিয়েছিল তাকে।
(ছবিসূত্র: এএফপি)
রেকর্ডের পিঠে রেকর্ড
চলতি আইপিএল মরসুমে বৈভব সূর্যবংশীর পরিসংখ্যান যেন ভিডিও গেমের মতো। তিনি এ পর্যন্ত মোট ৬৮০ রান সংগ্রহ করেছেন, যেখানে তার স্ট্রাইক রেট অবিশ্বাস্য ২৪২.৮৬। তার মোট রানের ৮৮.৯ শতাংশই এসেছে বাউন্ডারি থেকে, যার মধ্যে ৫৫টি চার এবং ৬৫টি ছক্কা রয়েছে। এমন বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের কারণেই রাজস্থান রয়্যালস আজ টুর্নামেন্টের কোয়ালিফায়ার ২-এ জায়গা করে নিয়েছে।
টেন্ডুলকারের সাথে তুলনা ও জাভেদ আফ্রিদির মন্তব্য
অনেকেই বৈভবকে ১৯৮৯ সালে অভিষেক হওয়া ১৬ বছর বয়সী শচীন টেন্ডুলকারের সাথে তুলনা করছেন। এই প্রতিভার দ্যুতি শুধু ভারতেই সীমাবদ্ধ নেই, তা পৌঁছে গেছে পাকিস্তানের সীমানাতেও। বাবর আজমের নেতৃত্বাধীন পেশোয়ার জালমির মালিক জাভেদ আফ্রিদি এই তরুণ ক্রিকেটারের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি সত্যিই ১৫ বছর বয়সী বৈভবের ৯৭ রানের উজ্জ্বল ইনিংস দেখে মুগ্ধ। এই বয়সে এমন দক্ষতা সত্যিই বিরল এবং বিশেষ। সে আগামীর একজন সুপারস্টার।’
ক্রিকেটের মাধ্যমে সেতুবন্ধন
জাভেদ আফ্রিদি মনে করেন, আইপিএল এবং পিএসএল-এর মতো টুর্নামেন্টগুলো তরুণ প্রতিভাদের জন্য বড় মঞ্চ। তিনি বলেন, ‘এই কারণেই আমাদের পিএসএল-এর মতো লিগগুলো এত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা চাই আমাদের পাকিস্তানের ছেলেরাও যেন এমন সুযোগ পায় এবং বিশ্বের মঞ্চে নিজেদের তুলে ধরতে পারে।’
ক্যারিয়ারের গ্রাফ ঊর্ধ্বমুখী
বিহারের এই তরুণ প্রতিভার উত্থান কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়। গত বছর আইপিএলে অভিষেকের পর থেকেই তিনি ধারাবাহিক পারফরম্যান্স করে আসছেন। ২০২৬ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ফাইনালে রেকর্ড গড়া ১৭৫ রানের ইনিংস খেলে তিনি প্রমাণ করেছিলেন কেন তাকে ভবিষ্যতের তারকা বলা হচ্ছে। চলতি আইপিএলে রাজস্থান রয়্যালসের মোট রানের প্রায় এক-চতুর্থাংশ একাই সংগ্রহ করে দলকে শিরোপার লড়াইয়ে টিকিয়ে রেখেছেন তিনি।
ক্রিকেট ও রাজনীতির ঊর্ধ্বে
বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ভারত ও পাকিস্তানের সম্পর্ক জটিল হলেও, মাঠের ক্রিকেট সবসময়ই আনন্দের উপলক্ষ নিয়ে আসে। বৈভব সূর্যবংশীর মতো প্রতিভারা ক্রিকেট মাঠে যে বিনোদন উপহার দেন, তা দুই দেশের সমর্থকদের কাছেই সম্মানের। জাভেদ আফ্রিদির মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিদের এই ধরনের ইতিবাচক মন্তব্য দুই দেশের ক্রীড়াঙ্গনের মধ্যে এক অদৃশ্য সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করতে পারে। ক্রিকেটের এই চিরন্তন সত্যই যেন আবার প্রমাণিত হলো—খেলাধুলা সবসময়ই বিভেদ ভুলে মানুষকে কাছে টানে। এখন দেখার বিষয়, আইপিএলের বাকি ম্যাচে বৈভব তার এই ফর্ম কতটা বজায় রাখতে পারেন এবং রাজস্থান রয়্যালসকে চ্যাম্পিয়ন করতে পারেন কি না।