Bangladesh Cricket

২০১৪ সালের সেই দুঃসহ স্মৃতি: নিজের অন্ধকার অধ্যায় নিয়ে যা জানালেন বিরাট কোহলি

Shaurya Rathore · · 1 min read
Share

কোহলির ক্যারিয়ারের সবচেয়ে কঠিন সময়

আধুনিক ক্রিকেটের অন্যতম সেরা ব্যাটার বিরাট কোহলি মানেই প্রতিপক্ষ বোলারদের আতঙ্ক। মাঠে তার আগ্রাসী মনোভাব এবং বড় ইনিংস খেলার ক্ষমতা তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে। কিন্তু সাফল্যের এই দীর্ঘ যাত্রার মাঝে এমন এক সময় এসেছিল, যখন তিনি পুরোপুরি আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছিলেন। সম্প্রতি কোহলি নিজেই তার ক্যারিয়ারের সেই অন্ধকার অধ্যায় নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেছেন।

বিরাট কোহলি। (সূত্র: X.com)

২০১৪ সালের ইংল্যান্ড সফরটি বিরাট কোহলির জন্য ছিল ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় অগ্নিপরীক্ষা। সেই স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে কোহলি জানিয়েছেন, সেই সময় প্রতি সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর তার মনে হতো, আজ তিনি নিশ্চিতভাবে ব্যর্থ হবেন। সেই মানসিক চাপের অবস্থা ছিল অত্যন্ত ভয়াবহ।

প্রতিটি সকালে ছিল ব্যর্থতার ভয়

কোহলি বলেন, ‘২০১৪ সালের ইংল্যান্ড সফর ছিল আমার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে খারাপ সময়। প্রতিটি সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর জানতাম যে আজ আমি ব্যর্থ হতে যাচ্ছি, তবুও নিজেকে প্রতিদিন মাঠে নামার জন্য চাপ দিতে হতো।’

কোহলি সেই সময়ের একটি চাঞ্চল্যকর অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেছেন। প্রথম ওডিআই ম্যাচে ব্যাট করতে নামার সময় তার পা কাঁপছিল। তিনি নিজেকে কথা দিয়েছিলেন যে, তিনি প্রতিটি বল ছয় মারার চেষ্টা করবেন। সেই মানসিকতা নিয়ে মাঠে নেমে প্রথম বলেই মিড-অফে ক্যাচ দিয়ে শূন্য রানে আউট হন। তবে মজার বিষয় হলো, সেই আউটটি হওয়ার পর তিনি এক অদ্ভুত স্বস্তি অনুভব করেছিলেন। কারণ তিনি ভয়কে জয় করার একটি প্রচেষ্টা করেছিলেন।

কেন এত কঠিন ছিল সেই সফর?

২০১৪ সালের সেই টেস্ট সিরিজে কোহলি ইংল্যান্ডের সুইং কন্ডিশনের সামনে পুরোপুরি অসহায় হয়ে পড়েছিলেন। ১০ ইনিংসে তিনি মাত্র ১৩৪ রান করেছিলেন। বিশেষ করে জেমস অ্যান্ডারসনের বলগুলো অফ-স্টাম্পের বাইরে তাকে বারবার পরাস্ত করছিল। একজন ব্যাটার হিসেবে এটি ছিল চরম মানসিক যন্ত্রণার।

  • মানসিক লড়াই: এলিট পর্যায়ের অ্যাথলেটদের পর্দার আড়ালের লড়াই সাধারণ ভক্তরা সবসময় বুঝতে পারেন না। রেকর্ডের ভিড়ে চাপা পড়ে যায় সেই মানসিক যন্ত্রণা।
  • ভয় থেকে মুক্তি: কোহলির সেই দিনের সেই শটটি ছিল আসলে ভয়কে ছুড়ে ফেলার একটি প্রচেষ্টা। ব্যর্থ হওয়া সত্ত্বেও তিনি তখন আর ভয় নিয়ে খেলতে চাইছিলেন না।

পরিবর্তন ও উত্তরণ

বিরাট কোহলির ক্যারিয়ারের বিশেষত্ব হলো তার ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষমতা। সেই ব্যর্থতার পর তিনি ভেঙে পড়েননি। বরং সেই সফরটি তার ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো কাজ করেছিল। পরবর্তীতে ২০১৮ সালের ইংল্যান্ড সফরে তিনি এক নতুন রূপে ফিরে এসেছিলেন। সেই সিরিজে তিনি ছিলেন ভারতের হয়ে সবচেয়ে সফল ব্যাটারদের একজন।

কোহলির এই গল্প আমাদের শেখায় যে, ব্যর্থতা ক্যারিয়ারের শেষ নয়। বরং সঠিক মানসিকতা এবং অদম্য জেদ থাকলে সবচেয়ে অন্ধকার সময় থেকেও আলোর পথ খুঁজে পাওয়া সম্ভব। তার এই অভিজ্ঞতা আজকের উদীয়মান ক্রিকেটারদের জন্য বড় শিক্ষা। খেলাধুলায় শারীরিক দক্ষতার পাশাপাশি মানসিক দৃঢ়তা কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা কোহলির এই বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

তিনি যখনই মাঠে নেমেছেন, চেষ্টা করেছেন নিজের সেরাটা দেওয়ার। ২০১৪ সালের সেই শিক্ষা তাকে একজন পরিণত ব্যাটার হিসেবে গড়ে তুলেছে, যা আমরা গত এক দশকে বিশ্বমঞ্চে বারবার দেখেছি। কোহলির এই লড়াই কেবল রানের লড়াই ছিল না, ছিল নিজের সত্তাকে খুঁজে পাওয়ার লড়াই।

Shaurya Rathore
Shaurya Rathore

Following the sun and the cricket season worldwide. Your go-to source for international tours and franchise league updates.