Willey, Harrison inspire 100-run thrashing of Worcestershire
নর্দাম্পটনশায়ারের দাপটে বিধ্বস্ত ওরচেস্টারশায়ার
ভাইটালিটি ব্লাস্ট টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে নিউজ রোডে নর্দাম্পটনশায়ার স্টিলব্যাকস এক বিধ্বংসী ক্রিকেট প্রদর্শনী উপহার দিয়েছে। ড্যারেন লেহম্যানের শিষ্যরা ওরচেস্টারশায়ার র্যাপিডসকে ১০০ রানের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করে নিজেদের টানা দ্বিতীয় জয় তুলে নিয়েছে। ব্যাট হাতে ডেভিড উইলির আক্রমণাত্মক ব্যাটিং এবং বল হাতে ক্যালভিন হ্যারিসনের ঘূর্ণিজাদু এই জয়ের মূল ভিত্তি গড়ে দিয়েছে।
ব্যাটিংয়ে উইলির তাণ্ডব
টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে স্টিলব্যাকস শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিল। যদিও ক্রিস লিন ১৫ রানে ফিরে যান, তবে এরপরই দলের হাল ধরেন অধিনায়ক ডেভিড উইলি। উইলি মাত্র ২৩ বলে ৪৬ রানের একটি বিস্ফোরক ইনিংস খেলেন, যার মধ্যে ছিল সাতটি বাউন্ডারি। তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন রিকার্ডো ভাসকনসেলোস (৩৪)। মাঝপথে অ্যাডাম ফিঞ্চ ওরচেস্টারশায়ারের হয়ে ভালো বোলিং করলেও নর্দাম্পটনশায়ার নির্ধারিত ২০ ওভারে ১৯১ রানের একটি চ্যালেঞ্জিং স্কোর দাঁড় করাতে সক্ষম হয়। ক্যালভিন হ্যারিসনও লোয়ার অর্ডারে ৩০ রানের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
বোলিংয়ে হ্যারিসনের ঘূর্ণি
১৯২ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ওরচেস্টারশায়ার শুরু থেকেই নর্দাম্পটনশায়ারের পেসারদের তোপের মুখে পড়ে। বেন স্যান্ডারসনের দুর্দান্ত বোলিংয়ে পাওয়ারপ্লের মধ্যেই স্বাগতিকরা ৩৪ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায়। স্যান্ডারসন শুরুতেই দুই উইকেট তুলে নিয়ে প্রতিপক্ষের মেরুদণ্ড ভেঙে দেন। এরপর কেবল কাশিফ আলী (৩৮) কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু হ্যারিসনের বোলিং তোপের মুখে তাদের লোয়ার অর্ডার পুরোপুরি তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে। হ্যারিসন মাত্র ১৭ রানের বিনিময়ে ৪ উইকেট শিকার করে ওরচেস্টারশায়ারের ইনিংস ৯১ রানে গুটিয়ে দেন।
ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট
ম্যাচের মোড় ঘোরানো মুহূর্ত ছিল হ্যারিসনের স্পেল। যখন কাশিফ আলী এবং রাজা কিছুটা রান তোলার চেষ্টা করছিলেন, ঠিক তখনই হ্যারিসন এসে সেই জুটি ভাঙেন। এর পরপরই শেষ ৫টি উইকেট মাত্র ১১ রানের ব্যবধানে হারায় ওরচেস্টারশায়ার। স্টিলব্যাকস বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে স্বাগতিকরা মাত্র ১৪.৫ ওভারেই অলআউট হয়ে যায়।
ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত পরিসংখ্যান
- নর্দাম্পটনশায়ার: ১৯১ রান (উইলি ৪৬, ভাসকনসেলোস ৩৪, হ্যারিসন ৩০; ওয়েট ৩-৪২)।
- ওরচেস্টারশায়ার: ৯১ রান (কাশিফ আলী ৩৮; হ্যারিসন ৪-১৭, স্যান্ডারসন ২-৮)।
এই বিশাল জয়ের ফলে পয়েন্ট টেবিলে নর্দাম্পটনশায়ার নিজেদের অবস্থান বেশ দৃঢ় করল। দলের বোলিং এবং ব্যাটিংয়ের এই সমন্বয় কোচ ড্যারেন লেহম্যানের জন্য অত্যন্ত স্বস্তির কারণ। আগামী ম্যাচগুলোতেও তারা একই ধারায় খেলতে চাইবে। অন্যদিকে, ওরচেস্টারশায়ারের জন্য এই পরাজয় বেশ বড় একটি ধাক্কা, বিশেষ করে ব্যাটিং বিপর্যয় তাদের ভাবিয়ে তুলবে। বোলারদের পাশাপাশি ব্যাটারদের আরও দায়িত্বশীল হতে হবে যদি তারা টুর্নামেন্টে টিকে থাকতে চায়। স্টিলব্যাকসের এই অসামান্য নৈপুণ্য তাদের সমর্থকদের জন্য ছিল এক দারুণ উপহার এবং মাঠের পারফরম্যান্সের বিচারে তারা ছিল পুরোপুরি অপ্রতিদ্বন্দ্বী।