Report

Hasan, Tye fireworks deny Derbyshire as Yorkshire go two from two – হাসান ও টাইয়ের তাণ্ডবে ডার্বিশায়ারকে হারিয়ে ইয়র্কশায়ারের নাটকীয় জয়

Ojas Bhardwaj · · 1 min read
Share

হেডিংলিতে রুদ্ধশ্বাস থ্রিলার: অসম্ভবকে সম্ভব করলেন হাসান ও টাই

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের আসল সৌন্দর্যই হলো এর অনিশ্চয়তা। কখন কোন ম্যাচ কোন দিকে মোড় নেবে, তা আগে থেকে অনুমান করা প্রায় অসম্ভব। ভাইটালিটি ব্লাস্টে হেডিংলির মাঠে ঠিক তেমনই এক শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচের সাক্ষী হলেন ক্রিকেটপ্রেমীরা। ম্যাচটি যখন পুরোপুরি ডার্বিশায়ারের কব্জায় চলে গিয়েছিল, ঠিক তখনই ব্যাট হাতে ঝড় তুললেন ইয়র্কশায়ারের দুই বোলার—হাসান আলী এবং অ্যান্ড্রু টাই। তাদের অবিশ্বাস্য ও বিধ্বংসী ব্যাটিং নৈপুণ্যে ডার্বিশায়ারকে ২ উইকেটে হারিয়ে আসরে টানা দ্বিতীয় জয় তুলে নিয়েছে ইয়র্কশায়ার।

এক পর্যায়ে মনে হচ্ছিল ইয়র্কশায়ারের পরাজয় কেবল সময়ের ব্যাপার মাত্র। ১৩৯ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে ফেলার পর জয়ের জন্য শেষ ২৭ বলে প্রয়োজন ছিল ৫৬ রান। লোয়ার অর্ডারের দুই ব্যাটারের পক্ষে এই রান তোলা ছিল অলৌকিক কোনো ঘটনার মতো। কিন্তু পাকিস্তানি তারকা হাসান আলী এবং অস্ট্রেলিয়ান পেসার অ্যান্ড্রু টাই সেই অসম্ভবকেই বাস্তবে রূপ দিলেন। চার বল বাকি থাকতেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় ইয়র্কশায়ার।

প্রথমে ব্যাট করে ডার্বিশায়ারের লড়াকু সংগ্রহ

ম্যাচে টসে জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেয় ডার্বিশায়ার। শুরুতেই পাওয়ারপ্লেতে বেশ আক্রমণাত্মক ব্যাটিং উপহার দেয় তারা। পাওয়ারপ্লের ৬ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে তারা সংগ্রহ করে ৫৭ রান। ওপেনার অ্যানুরিন ডোনাল্ডকে ব্যক্তিগত ১০ রানে সাজঘরে ফেরত পাঠান হাসান আলী। অ্যান্ড্রু টাইয়ের হাতে ক্যাচ দিয়ে প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন তিনি।

এরপর ডার্বিশায়ারের রানের গতি কিছুটা ধীর হয়ে পড়ে। সপ্তম ওভারে ডার্বিশায়ারের দ্বিতীয় উইকেটের পতন ঘটে। ম্যাথু রিভিসের বলে ডিপ ব্যাকওয়ার্ড স্কয়ার লেগে ক্যাচ তুলে দেন ক্যালেব জুয়েল (২০)। এর মাত্র পাঁচ বল পরেই অভিজ্ঞ ব্যাটার ওয়েন ম্যাডসেনকে (২) হাসানের ক্যাচে পরিণত করেন রিভিস। মাত্র ৬৩ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে যায় ডার্বিশায়ার।

অ্যান্ডারসনের ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস ও রেকর্ডের হাতছানি

চাপের মুখে দাঁড়িয়ে দলের হাল ধরেন মার্টিন অ্যান্ডারসন এবং ম্যাথু মন্টগোমারি। দুজন মিলে ইয়র্কশায়ারের বোলারদের ওপর চড়াও হন। অ্যান্ডারসন মাত্র ৩৬ বলে নিজের অর্ধশতক পূর্ণ করেন। ডার্বিশায়ারের দলীয় শতরান পূর্ণ হয় ১২তম ওভারে। অ্যান্ডারসন এবং মন্টগোমারির মধ্যে চতুর্থ উইকেটে গড়ে ওঠে ৭৩ রানের এক দুর্দান্ত অংশীদারিত্ব। এটি ইয়র্কশায়ারের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ডার্বিশায়ারের চতুর্থ উইকেটে সর্বোচ্চ রানের নতুন রেকর্ড।

দলীয় ১৩৬ রানের মাথায় ৩৫ রান করা মন্টগোমারিকে বোল্ড করে এই জুটি ভাঙেন জাফর চোহান। তবে ডার্বিশায়ারের রানের গতি থামেনি। শেষ দিকে রস হোয়াইটলি দ্রুত গতিতে রান তুলতে শুরু করেন। শেষ ওভারে অ্যান্ড্রু টাইয়ের বলে দুটি ছক্কা হাঁকিয়ে ডার্বিশায়ারকে ১৯৪ রানের বড় পুঁজিতে পৌঁছে দেন হোয়াইটলি। মার্টিন অ্যান্ডারসন ৮১ রানে অপরাজিত থাকেন, যা তার টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের সেরা ইনিংস। ইয়র্কশায়ারের পক্ষে সবচেয়ে নিয়ন্ত্রিত বোলিং করেন লেগ-স্পিনার জাফর চোহান, যিনি ৪ ওভারে মাত্র ৩২ রান দিয়ে ১টি উইকেট নেন।

জবাবে ইয়র্কশায়ারের শুরুটা ছিল ঝড়ো কিন্তু বিপর্যয়কর

১৯৫ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ইয়র্কশায়ার শুরু থেকেই মারকুটে ব্যাটিং শুরু করে। ওপেনার অ্যাডাম লিথ মাত্র ১১ বলে খেলেন ৩১ রানের এক টর্নেডো ইনিংস, যার মধ্যে ছিল তিনটি ছক্কা ও দুটি চারের মার। কিন্তু তৃতীয় ওভারেই আকিব জাভেদের বলে আউট হয়ে তিনি বিদায় নেন। এর দুই বল পরেই জনি বেয়ারস্টো মাত্র ৮ রান করে জ্যাক মরলির স্পিনের ফাঁদে পড়ে এলবিডব্লিউ হয়ে সাজঘরে ফেরেন। পাওয়ারপ্লের শেষ ওভারে জেমস ওয়ার্টন মাত্র ৫ রান করে আউট হলে ইয়র্কশায়ারের স্কোর দাঁড়ায় ৫২ রানে ৩ উইকেট।

মঈন আলীর লড়াই এবং জ্যাক মরলির স্পিন জাদু

কঠিন এই পরিস্থিতিতে দলের হাল ধরেন অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার মঈন আলী। তিনি স্পিনার জ্যাক মরলিকে এক ওভারে দুটি ছক্কা মেরে চাপ কমানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু অন্য প্রান্তের ব্যাটাররা তাকে যোগ্য সঙ্গ দিতে পারেননি। উইল লাক্সটন মাত্র ৫ রান করে মরলির বলে বোল্ড হন। এরপর ম্যাথু রিভিস (১৩) এবং জর্জ হিল শূন্য রানে বিদায় নিলে ইয়র্কশায়ারের ইনিংস খাদের কিনারায় গিয়ে পৌঁছায়।

মঈন আলী একাই লড়াই চালিয়ে যান এবং মাত্র ৩৩ বলে ৫টি ছক্কার সাহায্যে নিজের অর্ধশতক পূর্ণ করেন। তবে অর্ধশতক ছোঁয়ার পরপরই বড় শট খেলতে গিয়ে ডিপ পয়েন্ট সীমানায় অমৃত বাসরার হাতে ক্যাচ দিয়ে বসেন তিনি। মঈন যখন আউট হন, তখন ইয়র্কশায়ারের সংগ্রহ ১৩৩ রানে ৭ উইকেট। এরপরই জ্যাক মরলি তার চতুর্থ শিকার হিসেবে ডম বেসকে ফিরিয়ে দিলে ইয়র্কশায়ারের স্কোর দাঁড়ায় ১৩৯ রানে ৮ উইকেট। মরলি তার ৪ ওভারে ৪৪ রান দিয়ে ৪ উইকেট শিকার করেন, যা ডার্বিশায়ারকে জয়ের খুব কাছাকাছি নিয়ে গিয়েছিল।

হাসান ও টাইয়ের অতিমানবীয় ব্যাটিং তাণ্ডব

যখন মনে হচ্ছিল ম্যাচটি সম্পূর্ণভাবে ডার্বিশায়ারের নিয়ন্ত্রণে, ঠিক তখনই শুরু হয় হাসান আলী এবং অ্যান্ড্রু টাইয়ের সেই ঐতিহাসিক কাউন্টার-অ্যাটাক। জয়ের জন্য শেষ ৩ ওভারে প্রয়োজন ছিল ৩২ রান। টাই ও হাসান মিলে ডার্বিশায়ারের বোলারদের ওপর রীতিমতো তাণ্ডব চালান।

  • অ্যান্ড্রু টাই: মাত্র ১৩ বলে ৩২ রান করেন, যার মধ্যে ছিল দৃষ্টিনন্দন ছক্কার মার।
  • হাসান আলী: মাত্র ১৩ বলে ৩টি চার এবং ২টি ছক্কার সাহায্যে ৩১ রানে অপরাজিত থাকেন।

টাই ও হাসানের এই অবিশ্বাস্য ব্যাটিং ঝড়ে ডার্বিশায়ারের বোলাররা লাইন ও লেংথ হারিয়ে ফেলেন। ম্যাচের ১৯তম ওভারে একের পর এক বাউন্ডারি হাঁকিয়ে তারা জয় প্রায় নিশ্চিত করে ফেলেন এবং শেষ ওভারের দ্বিতীয় বলেই চার মেরে দলকে এক অবিস্মরণীয় জয় এনে দেন হাসান আলী। ডার্বিশায়ারের স্পিনার জ্যাক মরলির ৪ উইকেটের অসাধারণ স্পেল এবং অ্যান্ডারসনের ৮১ রানের লড়াকু ইনিংস শেষ পর্যন্ত ম্লান হয়ে যায় এই দুই বোলারের ব্যাটিং ঝড়ে। এই জয়ের মাধ্যমে ভাইটালিটি ব্লাস্টে নিজেদের দুর্দান্ত পথচলা বজায় রাখল ইয়র্কশায়ার।

Ojas Bhardwaj
Ojas Bhardwaj

Living for the sound of leather on willow. Bringing you the raw energy of the stadium through vivid reporting.