‘Options’ for Green’s 2027 ODI World Cup role, David unavailable but selectors hopeful
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় ক্যামেরন গ্রিন ও অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেটের নতুন সমীকরণ
অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল ২০২৭ সালের ওডিআই বিশ্বকাপের দিকে তাকিয়ে নিজেদের প্রস্তুত করতে শুরু করেছে। এই দীর্ঘ যাত্রায় তাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের মতো একজন ফিনিশারের অভাব পূরণ করা। এই শূন্যস্থান পূরণে ক্যামেরন গ্রিনকে নতুন কোনো ভূমিকায় দেখা যেতে পারে কি না, তা নিয়ে এখন চলছে ব্যাপক পর্যালোচনা। পাকিস্তান ও বাংলাদেশ সফরকে সামনে রেখে গ্রিনের ব্যাটিং পজিশন ও তার অলরাউন্ড দক্ষতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করাই এখন টিম ম্যানেজমেন্টের প্রধান চ্যালেঞ্জ।
ক্যামেরন গ্রিনের নতুন চ্যালেঞ্জ
অস্ট্রেলিয়ার কোচ অ্যান্ড্রু ম্যাকডোনাল্ডের মতে, গ্রিন একজন অত্যন্ত প্রতিভাবান ক্রিকেটার যার ব্যাটিং এবং বোলিং উভয় ক্ষেত্রেই দক্ষতা রয়েছে। যদিও অ্যাশেজ এবং টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তার পারফরম্যান্স আশানুরূপ ছিল না, তবুও নির্বাচকরা তার ওপর আস্থা রাখছেন। কোচ ম্যাকডোনাল্ড বলেন, ‘গ্রিনের ব্যাটিং অর্ডারে ওপরে বা নিচে খেলার ক্ষমতা রয়েছে। ম্যাক্সওয়েলের অনুপস্থিতিতে তাকে ফিনিশারের ভূমিকায় দেখার বিষয়টি আমরা গুরুত্ব সহকারে ভাবছি।’
টিম ডেভিড কি ওডিআইতে ফিরবেন?
অস্ট্রেলীয় নির্বাচকদের দীর্ঘদিনের আশা ছিল পাওয়ার-হিটার টিম ডেভিডকে ওডিআই দলে নিয়মিত করার। ২০২৩ বিশ্বকাপের ঠিক আগেই তাকে ওডিআইতে পরীক্ষা করা হয়েছিল, কিন্তু বর্তমানে তিনি মূলত টি-টোয়েন্টিতেই মনোনিবেশ করছেন। নির্বাচকরা তাকে দলে পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী হলেও, ডেভিড এখনো ওডিআই ক্রিকেটের জন্য নিজেকে পুরোপুরি উপলব্ধ করেননি। তবে ভবিষ্যতে এই চিত্র বদলে যেতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আইপিএল ও ফর্মের সংকট
ক্যামেরন গ্রিন সদ্য সমাপ্ত আইপিএল মৌসুমে কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে মিশ্র পারফরম্যান্স করেছেন। ১৪ ম্যাচে ৩২২ রান এবং ৭টি উইকেট পেলেও তার বোলিং ইকোনমি রেট নিয়ে কিছুটা উদ্বেগের জায়গা রয়েছে। তবে কোচ ম্যাকডোনাল্ড মনে করেন, গ্রিনের দক্ষতা এবং তার সামগ্রিক অবদানের মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। তিনি স্বীকার করেছেন যে, তিনটি ফরম্যাটে একসাথে খেলা অত্যন্ত কঠিন এবং গ্রিনকে তার সেরা ফর্মে ফেরাতে কোচিং প্যানেল সব ধরনের সহায়তা দিচ্ছে।
বিশ্বকাপের পথে দল গঠনের সমস্যা
অস্ট্রেলিয়ার ওডিআই ব্যাটিং লাইনআপে এখন একটি বড় পরিবর্তনের হাওয়া বইছে। স্টিভ স্মিথ ও গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের অবসরের পর মিডল অর্ডারে এক ধরনের শূন্যতা তৈরি হয়েছে। মিচেল মার্শ এবং ট্রাভিস হেড ওপেনিং জুটিতে সেট হয়ে গেলেও, জশ ইংলিস, মারনাস ল্যাবুশেন এবং অ্যালেক্স ক্যারির মতো খেলোয়াড়দের ওপর অনেক দায়িত্ব বর্তাবে। দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়েতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ২০২৭ বিশ্বকাপের পিচের কথা মাথায় রেখে, শেষ দিকে দ্রুত রান তোলার সক্ষমতা অর্জন করাই হবে অস্ট্রেলিয়ার মূল লক্ষ্য।
উপসংহার
অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল বর্তমানে এক কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। একদিকে নতুন প্রতিভা খুঁজে বের করার তাগিদ, অন্যদিকে বিশ্বমঞ্চে নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ। গ্রিন ও ডেভিডের মতো ক্রিকেটারদের নিয়ে নির্বাচকদের এই ‘অপশন’ বা বিকল্প খোঁজার প্রক্রিয়াটিই মূলত ২০২৭ সালের বিশ্বকাপের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবে। এখন দেখার বিষয়, আগামী বছরগুলোতে অস্ট্রেলিয়া তাদের এই নতুন রূপরেখাকে কতটা সফলভাবে বাস্তবে রূপ দিতে পারে।