‘I was not supposed to play today’ – Riyan Parag not completely fit but will play Eliminator
আইপিএলের প্লে-অফের লড়াইয়ে রিয়ান পরাগের অদম্য মানসিকতা
‘I was not supposed to play today’ – Riyan Parag not completely fit but will play Eliminator, রাজস্থান রয়্যালসের অধিনায়কের এই বক্তব্যেই ফুটে উঠেছে তার দায়বদ্ধতা। আইপিএল ২০২৬-এর লিগ পর্বের শেষ ম্যাচে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের মুখোমুখি হওয়ার আগে তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ ছিলেন না। হ্যামস্ট্রিং ইনজুরির কারণে আগের ম্যাচে লখনউ সুপার জায়ান্টসের বিপক্ষে খেলতে পারেননি পরাগ। কিন্তু দলের ভাগ্য যখন সুতোয় ঝুলছে, তখন তিনি মাঠ ছাড়ার ঝুঁকি নিতে চাননি।
ইনজুরি ছাপিয়ে দলের জয়
মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের বিপক্ষে জয়ের জন্য রাজস্থান রয়্যালসের জয় ছাড়া কোনো বিকল্প ছিল না। ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে পরাগ যখন মাঠে নামেন, তখন তার হাঁটাচলায় জড়তা স্পষ্ট ছিল। ৮ বলে ১৪ রান করার পাশাপাশি ফিল্ডিংয়ের সময়ও তাকে খুঁড়িয়ে হাঁটতে দেখা গেছে। ম্যাচ শেষে তিনি অকপটে স্বীকার করেন, চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তার এই ম্যাচে খেলার কথা ছিল না। এমনকি মৌসুমের বাকি ম্যাচগুলো নিয়েও ছিল অনিশ্চয়তা। তবে ২৭ মার্চ সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের বিপক্ষে এলিমিনেটর ম্যাচে তিনি যে খেলবেন, তা নিশ্চিত করেছেন রাজস্থান অধিনায়ক।
কঠিন পরিস্থিতির দায় স্বীকার
টানা তিন ম্যাচ হারের পর শেষ দুই ম্যাচে জয় তুলে নিয়ে প্লে-অফে জায়গা করে নিয়েছে রাজস্থান। অধিনায়ক হিসেবে পরাগ মনে করেন, তাদের আরো আগেই যোগ্যতা অর্জন করা উচিত ছিল। তিনি বলেন, ‘আমরা বিষয়টি অনেক বেশি দেরিতে শেষ করেছি এবং মাঠের অনেক সুযোগ হাতছাড়া করেছি। আশা করি, ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরা পরবর্তী ম্যাচগুলোতে আরও ভালো পারফরম্যান্স উপহার দিতে পারব।’
অধিনায়ক হিসেবে সাহসী সিদ্ধান্ত
মুম্বাইয়ের বিপক্ষে ২০৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে রাজস্থান রয়্যালস তাদের কৌশলে পরিবর্তন আনে। জোফরা আর্চারকে সাত নম্বরে ব্যাটিংয়ে পাঠানো এবং ১৬তম ওভারে তাকে বল করতে নিয়ে এসে হার্দিক পান্ডিয়াকে ফেরানোর সিদ্ধান্তটি ছিল অত্যন্ত সাহসী। নিজের নেতৃত্ব শৈলী সম্পর্কে পরাগ বলেন, ‘আমি এই মৌসুমে অনেক সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আসাম দলের হয়ে নেতৃত্ব দেওয়ার সময়ও আমি এভাবেই কাজ করি। এগুলো জুয়া নয়, বরং অনেক চিন্তাভাবনা করে নেওয়া কৌশল।’
তরুণ তুর্কিদের প্রশংসা
ম্যাচে জয়ের অন্যতম নায়ক ছিলেন ১৯ বছর বয়সী যশ রাজ পুঞ্জা এবং ব্রিজেশ শর্মা। পুঞ্জা ৪৪ রান দিয়ে ২ উইকেট এবং ব্রিজেশ ২৬ রান দিয়ে ২ উইকেট শিকার করেন। তরুণদের প্রশংসা করতে গিয়ে পরাগ বলেন, ‘আমি সাধারণত তাদের খুব বেশি প্রশংসা করি না, যাতে তারা আত্মতুষ্টিতে না ভোগে। কিন্তু আজকের পারফরম্যান্সের পর তারা প্রশংসার দাবিদার। নেট বোলার থেকে মূল স্পিনার হিসেবে পুঞ্জা যে অসাধারণ যাত্রা শুরু করেছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। আশা করি, সামনের ম্যাচগুলোতেও তারা তাদের ছন্দ ধরে রাখবে।’
এলিমিনেটর ম্যাচের চ্যালেঞ্জ
রাজস্থান রয়্যালসের সামনে এখন এলিমিনেটরের কঠিন চ্যালেঞ্জ। সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের বিপক্ষে জিতলে তবেই তারা ফাইনালে যাওয়ার স্বপ্ন দেখতে পারবে। অধিনায়ক রিয়ান পরাগের চোট বড় উদ্বেগের কারণ হলেও, তার লড়াকু মানসিকতা দলের জন্য বড় অনুপ্রেরণা। দল কি পারবে ইনজুরি জর্জরিত অধিনায়ককে সাথে নিয়ে ট্রফির পথে এগিয়ে যেতে? উত্তর মিলবে আগামী ম্যাচের পারফরম্যান্সের মাধ্যমেই। ক্রিকেটপ্রেমীরা এখন তাকিয়ে আছেন সেই গুরুত্বপূর্ণ এলিমিনেটর লড়াইয়ের দিকে।